1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন - ebarta24.com
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন

ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

শিক্ষা ও মানবসম্পদ একে অপরের পরিপূরক। শিক্ষার সঙ্গে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির একটি ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র আছে। জন্মগতভাবেই মানবজাতি একটু বেশি পরিমাণ মেধার অধিকারী। বাঙালি জাতি মেধাহীন এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। মেধাবিহীন কোনো জাতি কখনও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না।

বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে বেছে নেয়া হয়, সে গানের শুরুতেই বলা হয়েছে- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসবার পর বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন।

বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশে কোনোরকম খনিজদ্রব্য সোনা-দানা, হীরা-মুক্তা, তেলসম্পদ বলতে কিছুই নেই, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশটিকে আপনি বার বার সোনার বাংলা বলে চিহ্নিত করছেন কেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- “আমার বাংলার মাটি আছে, আমার বাংলার মানুষ আছে। আমি বাংলার মাটি এবং মানুষকেই সোনা বলে মনে করি। দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ। খনিজ সম্পদের চেয়েও বড় সম্পদ। এই মানবসম্পদই একদিন বাংলাদেশকে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে সবসময় সামাজিক রূপান্তরের হাতিয়াররূপে দেখতে চেয়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন দীর্ঘদিনের শোষণ জর্জরিত সমাজে দ্রুত সামাজিক রূপান্তর ও অগ্রগতির জন্য শিক্ষাকে বিশেষ হাতিয়াররূপে প্রয়োগ করতে হবে। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির স্বার্থে সকল নাগরিকের মধ্যে মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী শিক্ষা লাভের সুযোগ-সুবিধার সমতাবিধানের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিভার সদ্ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ যাতে স্ব-স্ব প্রতিভা ও প্রবণতা অনুযায়ী সমাজজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সব ক্ষেত্রে সৃজনশীল ক্ষমতা নিয়ে অগ্রসর হতে পারে, সে জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে তার বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার দক্ষতা সৃষ্টিরও বন্দোবস্ত করতে হবে।

নানাবিধ কুসংস্কার, অজ্ঞতা, অনাচার ও দুর্নীতি অবসানের অনুকূল বিজ্ঞানমুখী, আদর্শবাদী ও সামাজিক উন্নয়নের পরিপোষক মনোভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে। এজন্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যূনতম মান পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু তার বিভিন্ন ভাষণে প্রয়োগমুখী অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনুকূল শিক্ষার কথা বলেছেন। দেশের সামগ্রিক কল্যাণ ও উন্নতির উদ্দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির বিশাল দায়িত্ব শিক্ষা ব্যবস্থার। বঙ্গবন্ধু যখন দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন তখন বাংলাদেশ বিধ্বস্ত একটি দরিদ্র দেশ। আমাদের জীবনযাত্রার মান পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত জাতির তুলনায় তখন নিম্নস্তরে।

জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা একটি সামাজিক পুঁজি বিশেষ। জনসাধারণের শিক্ষালাভের সঙ্গে সঙ্গে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচিত হয়। প্রধানত একটি দেশের সকল স্তরের মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার আয়োজনের ফলেই জাতীয় সম্পদের ব্যাপক অগ্রগতি সম্ভব হয়। সে অগ্রগতিকে দ্রুততর করে তোলার জন্য শিক্ষাকে প্রয়োগমুখী করে তোলা প্রয়োজন। আমাদের বিপুল জনশক্তি কর্মে নিয়োজিত হলে এবং আধুনিক সমাজের উপযোগী বিভিন্নমুখী দক্ষতা অর্জন করলে অনিবার্যভাবে জাতীয় সম্পদ সমৃদ্ধ হবে।

কারিগরি শিক্ষাকে সুসংহত করার জন্য দেশের সমস্ত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীনে আনতে হবে। বৃত্তিমূলক শিক্ষাক্রম থেকে উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে সমবায়ের ভিত্তিতে ছোট ছোট কারখানা-খামার ইত্যাদি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে তাদের কর্মসংস্থান সমস্যার সমাধানের কথা ভেবেছিলেন।

কৃষির উন্নতির জন্য বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা স্তরের কৃষি কারিগরি কোর্স চালু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু সরকার গণমুখী শিক্ষার বিষয়কে শুধু সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েই থেমে থাকেননি, বরং নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, ১১ হাজার নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। জাতির জন্য একটি গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা যে কত আবশ্যক তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আমাদের জন্য শিক্ষাই উন্নতি ও অগ্রগতির একমাত্র সোপান। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব রয়েছে। জনসংখ্যা প্রচুর। বঙ্গবন্ধু শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে সম্পদে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন।

উচ্চশিক্ষার মান খারাপ হোক, বঙ্গবন্ধু তা চাননি। উদাহরণ হিসেবে একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করেছিলেন দেশের প্রখ্যাত গবেষক ও কথাসাহিত্যিক আবুল ফজলকে। তার সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোর বি.এ পরীক্ষার ফলাফল ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। সম্ভবত পাসের হার ছিল ৩%। এ জন্য উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানারকম আন্দোলন শুরু হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত উপাচার্যের অপসারণ দাবি করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

এ থেকে বোঝা যায় একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যের মান-মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কতটা সচেষ্ট ছিলেন। বঙ্গবন্ধু মনে করতেন বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে হাতে-কলমে শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রসার ও উৎকর্ষ সাধনব্যতিত কোনো জাতি কৃষি শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য উৎপাদন ও কারিগরি ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে পারে না। বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তার লাভের দ্বারা জনসাধারণের অর্থনৈতিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব। বৃত্তিমূলক শিক্ষা তুলনামূলকভাবে অল্পসময়সাপেক্ষ এবং সে জন্য অল্পকালের ভেতরেই এর সুফল লাভ করা যায়।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষাকে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করে তোলা হোক। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো মাদ্রাসাগুলোতে একই প্রাথমিক শিক্ষাক্রম প্রবর্তিত হবে এবং সর্বস্তরে বাংলাকেই শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ধর্ম শিক্ষা আবশ্যিক পাঠ্যবিষয় হিসেবে পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আট বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষায় মাদ্রাসার ছাত্ররা তিন বছর মেয়াদি বৃত্তিমূলক ধর্ম শিক্ষা কোর্স পড়তে পারবে। এ কোর্সের নবম ও দশম শ্রেণিতে তাদেরকে বাংলা, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান ও ইংরেজি এই চারটি আবশ্যিক পাঠ্য বিষয় অধ্যয়ন করতে হবে।

এই শিক্ষার পরবর্তী স্তরবিন্যাস হবে তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স এবং দুবছরের পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স। প্রস্তাবিত আট শ্রেণির প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে হিন্দু ও বৌদ্ধ টোল শিক্ষার সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। টোলসমূহের আদ্য কোর্স সপ্তম শ্রেণি নয়, নবম শ্রেণি থেকে শুরু করতে হবে এবং তার মেয়াদ হবে তিন বছর। এ কোর্সে নবম ও দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা অন্যদের মতোই ধর্ম শিক্ষার সঙ্গে আবশ্যিক চারটি বিষয় বাংলা, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান ও ইংরেজি পাঠ করবে।

বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি করা সম্ভব নয়। তার ভাষায়- “শিক্ষা হচ্ছে বড় অস্ত্র যা যেকোন দেশকে বদলে দিতে পারে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলতেন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুরের মতো প্রাকৃতিক সম্পদবিহীন দেশ শুধু মানবসম্পদ সৃষ্টি করে যদি উন্নত দেশ হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশও একদিন উন্নত দেশ হবে। আর সে জন্যই তিনি নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার সেসব উদ্যোগের কিছু ছিল তাৎক্ষণিক আর কিছু ছিল দীর্ঘমেয়াদি। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হতে না হতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল ষড়যন্ত্রকারীদের এক চক্রের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে শুরু হয় সামরিকশাসন।

জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ১৯৭২ সালের সংবিধান যেমন স্থগিত করে দেয়, পাশাপাশি ৭২ সালের সংবিধানের আলোকে বঙ্গবন্ধু দেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, সে শিক্ষা ব্যবস্থাকেও স্থগিত করে দেয়া হয়। ফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পাকিস্তানি ধারায় ফিরে যায়। সামরিকশাসক জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল এরশাদ নতুন শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মহাবিপদের মুখে ঠেলে দেয়। পাকিস্তান আমলের শিক্ষাব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবার ষড়যন্ত্র করা হয়। তবে ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনাকে পুনরায় কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনার ২০১০ সালের শিক্ষানীতির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনার ব্যাপক প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার দেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ এবং সর্বশেষ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ ঘোষণা করেছেন এবং প্রত্যেকটি ভিশন সফলভাবে বাস্তবায়নে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনা জাতিকে পথ দেখাবে।

বঙ্গবন্ধু নৈতিক শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি মনে করতেন জ্ঞান শুধু কর্মদক্ষতা ও কৌশল অর্জন নয়, শিক্ষার্থীর মনে মৌলিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হবে। কর্মে ও চিন্তায়, বাক্যে ও ব্যবহারে যেন সে সদা সর্বদা সততার পথ অনুসরণ করে। চরিত্রবান, নির্লোভ ও পরোপকারী হয়ে ওঠে এবং সর্বপ্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হয় সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু মনে করতেন যুবমনে মূল্যবোধের সৃষ্টি ও তাদের চরিত্র গঠনের ব্যাপারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পাকিস্তান আমলে শিক্ষার ক্ষেত্রে মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং মৌলিক চিন্তার অবকাশ খুব কমই ছিল। সে অবস্থার দ্রুত অবসান চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। নতুন গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন চিন্তা, সৃজনশীলতা, সাংগঠনিক ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু তথ্য আহরণ নয় উপলব্ধি, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধিৎসা, গবেষণা, স্বাধীনভাবে সত্যানুসন্ধান প্রভৃতি গুণাবলি বিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য তারুণ্যের সৃজনশীলতা ও কর্মশক্তির যথাযথ মর্যাদা দান এবং সামগ্রিক ও শিক্ষাদান পদ্ধতির গণতান্ত্রিক রূপায়ণের প্রয়োজনীয়তাকে অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করেছেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। কাজেই বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও মানবসম্পদ ভাবনার গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা শেষে বলা যায় তার শিক্ষা ও মানবসম্পদ ভাবনার মধ্যে যে অসাধারণ প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার প্রতিফলন ঘটেছে, তার তুলনা হয় না।

লেখক: ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ, গবেষক, কলাম লেখক। সাবেক উপমহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021