1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
আশ্রিত রোহিঙ্গা ও ভয়ংকর নিরাপত্তা হুমকি - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
আশ্রিত রোহিঙ্গা ও ভয়ংকর নিরাপত্তা হুমকি - ebarta24.com
শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

আশ্রিত রোহিঙ্গা ও ভয়ংকর নিরাপত্তা হুমকি

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

মো. জাকির হোসেন:

নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া, গণহত্যা, গণধর্ষণ, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়াসহ ভয়ংকর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার আশ্রয়হীন লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মমতাময়ী নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছিলেন। একসঙ্গে এতসংখ্যক (১১ লাখ) বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। সীমিত সম্পদ ও অতি অপ্রতুল বাসযোগ্য ভূখণ্ড সত্ত্বেও মানবতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ দরদি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে ভরসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই রোহিঙ্গারা এখন শুধু অকৃতজ্ঞ নয়, কৃতঘ্ন আচরণ করছে। kalerkanthoউপকারীর উপকার যে অস্বীকার করে সে অকৃতজ্ঞ আর উপকারীর যে অপকার করে সে কৃতঘ্ন। রোহিঙ্গারা আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের জন্য নানা ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত হয়ে কৃতঘ্নের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরসহ পুরো এলাকা অপরাধ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলো হত্যা, ধর্ষণ, মানবপাচার, চাঁদাবাজি, অস্ত্রপাচার ও মাদকপাচারের ভয়ংকর আখড়ায় পরিণত হয়েছে। গত চার বছরে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দলবদ্ধ হামলা, সংঘর্ষ ও অতর্কিত হামলায় ২৩৪ জন রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা এ দেশের মানুষকেও হত্যা করছে। আনসার ক্যাম্পে আক্রমণ করে ক্যাম্পপ্রধানকে হত্যা করেছে। ১১টি অস্ত্র লুট করে নিয়েছে। পাসপোর্ট, এনআইডি জালিয়াতি করে, এমনকি বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে রোহিঙ্গারা। আগে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার হয়ে আসত আর এখন ক্রিস্টাল মেথের মতো ভয়ংকর মাদকও আসছে মিয়ানমার থেকে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাঙালিরাও মিলেমিশে মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারের ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ছাড়াও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে দেশে। এই অবৈধ অস্ত্রের একটি অংশ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্রের চাহিদা এতই বাড়ছে যে বাইরে থেকে আসা অবৈধ অস্ত্রে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তাই রোহিঙ্গা শিবিরের পাহাড়েও অস্ত্রের কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের প্রতি অনুগত ও কৃতজ্ঞ থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বড় উদ্বেগের কারণ হলো, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ১.৮৬ মাইল। একটি পরিসংখ্যান বলছে, ইয়াবাপাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ৯২ শতাংশ রোহিঙ্গা এবং ৯৬ শতাংশ ইয়াবা বাংলাদেশে আসে মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা টেকনাফ দিয়ে। মাদকপাচারের পাশাপাশি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ মিলিয়ে ভয়ংকর নিরাপত্তাঝুঁকির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো। সীমান্তবর্তী হওয়ায় ক্যাম্পগুলো আন্ত সীমান্ত যুদ্ধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারেরও ঝুঁকি রয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০১২ সালে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ওপর একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করে। ওই সেমিনারে Journey Towards Solution of Rohingya Refugee Crisis এই শিরোনামে আমি একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছিলাম। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ৩১ পৃষ্ঠার বুকলেট আকারে আমার প্রবন্ধটি প্রকাশ করেছে। প্রবন্ধে আমি উল্লেখ করেছিলাম—রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর (হুজি) যোগাযোগ রয়েছে; বিশেষ করে Arakan Rohingya Islamic Front (ARIF), Rohingya Solidarity Organization (RSO), Rohingya National Alliance (RNA) ও Arakan Rohingya National Organization (ARNO) বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য ভয়ংকর হুমকি সৃষ্টি করছে। আমার প্রবন্ধ প্রকাশের প্রায় এক দশক পর আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ছায়া সংগঠন ‘আল-ইয়াকিন’-এর নেতারা ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দাবি করেছেন, ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার আরাকানের অংশ। তাঁরা এত দিন মিয়ানমারের রাখাইনে ছিলেন। এখন তাঁদের আরেক রাজ্য কক্সবাজারে এসেছেন। তাঁরা এখানেই থাকবেন।’

আরসা ও আল-ইয়াকিন শুধু রোহিঙ্গা শিবির নয়, কক্সবাজারের মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করছে এই বাহিনীর সদস্যরা। কক্সবাজার ও টেকনাফের প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আল-ইয়াকিনের সদস্যরা। রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহসহ সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে যে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে তার সঙ্গে আরসা ও আল-ইয়াকিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে ভয়াবহ যে আগুনের ঘটনা ঘটে, তা ছিল আল-ইয়াকিনের কাজ। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা আগুন দিয়ে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। প্রতিনিয়ত তাদের হাতে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। আরসা ও আল-ইয়াকিন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ঘোর বিরোধী। তাদের নেতারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না। সে কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে যেসব সংগঠন কাজ করছে, সেগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে এবং তাদের নেতাদেরও টার্গেট করা হয়। নানা ঘটনায় এটা প্রমাণিত যে আরসা ও আল-ইয়াকিন রোহিঙ্গাদের পক্ষের শক্তি নয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সমর্থক। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিদেশি রাষ্ট্র ও বিদেশি সশস্ত্র সংগঠনের এমন অপতৎপরতা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। প্রশ্ন হলো, তারা কেন ফিরে যেতে চায় না? কারণ তারা মিয়ানমার জান্তা সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকিয়ে রাখতে চায়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অত্যন্ত বিলাসী জীবন যাপন করছেন এই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর নেতারা। কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশেই রয়েছে বখতিয়ার মার্কেট। বার্মিজ ও থাই পণ্যে ভরা মার্কেটে মিলছে পোল মার্ক ব্র্যান্ডের আট হাজার টাকা দামের টি-শার্ট। আছে অন্তত ২৫টি জুয়েলারি শোরুম, ১০টি বিউটি পার্লার, দুই শতাধিক দামি ব্র্যান্ডের মোবাইল শোরুম। প্রায় প্রতি রাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ঘরে বসে জলসার আসর। ক্যাম্পের সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে আসা হয় সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের মনোরঞ্জনের জন্য। বিলাসী জীবনযাপনের অর্থ আসে মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার, অপহরণ করে মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায় থেকে। মিয়ানমারের সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর তৎপরতা ক্রমেই রোহিঙ্গা শিবিরের বাইরে বিস্তৃত হচ্ছে। রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা এ দেশের মানুষকেও হত্যা করছে। পাসপোর্ট, এনআইডি জালিয়াতি করে, এমনকি বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে রোহিঙ্গারা। স্থানীয় অধিবাসীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মুক্তিপণ দিতে না পারলে নির্জন পাহাড়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২০২০ সালের এপ্রিলে টেকনাফের জীমংখালী থেকে এক দিনমজুর ও দুই কৃষককে তুলে নিয়ে যায় আল-ইয়াকিনের সশস্ত্র সদস্যরা। তারা তাঁদের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। জনপ্রতি তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দুই কৃষক ফিরে আসেন। তবে দিনমজুরের পরিবার টাকা দিতে না পারায় তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মাটিচাপা মরদেহ মেলে জীমংখালীর পাহাড়ে। কেউ এই বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস দেখায় না। প্রতিবাদ করলে নিশ্চিত মৃত্যু। আল-ইয়াকিনের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে এসবিবিএল (একনলা বন্দুক), নাইন এমএম পিস্তল, থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ওয়ান শ্যুটার গান, এমনকি একে-৪৭-এর মতো আগ্নেয়াস্ত্র। মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবাধ যাতায়াত ও সেখানে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড়ই উদ্বেগের। উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ হলো, পর্যটন নগরী হিসেবে খ্যাত দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সমুদ্রসৈকতগুলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ইনানী থেকে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের দূরত্ব মাত্র সাড়ে সাত মাইল (৭.৫৭ কিলোমিটার)। রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা যদি পর্যটক অপহরণের দিকে হাত বাড়ায়, তবে তা পর্যটনকে হুমকির মুখে ফেলবে নিশ্চিত করে বলা যায়।

ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা জনসংখ্যার ঘনত্বও উদ্বেগের কারণ। একটি হিসাব মতে, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। কোনো একটি অঘটন ঘটিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে লুকিয়ে থাকার সুবিধা রোহিঙ্গা শিবিরকে আরো ভয়ংকর করে তুলেছে। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের যাতে শনাক্ত করা না যায় সে জন্য তারা ওয়াকিটকি এবং মিয়ানমার পোস্টস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনসের (এমপিটি) সিম ব্যবহার করছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্টের পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম প্রতিষ্ঠান এমপিটি সীমান্তে অন্তত ১২টি টাওয়ার বসিয়েছে। সীমান্তের এত কাছে এমপিটির টাওয়ার আগে ছিল না। ফলে মংডু সীমান্তসহ আশপাশের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় এমপিটির সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থান করা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার বাজার ধরতে এমপিটি কম দামে সিম কার্ড এবং আকর্ষণীয় মিনিট ও ইন্টারনেটের অফার দিচ্ছে। ক্যাম্পের অনেক রোহিঙ্গাই এই সিম ও ডাটা ব্যবহার করছে। এমপিটির রিচার্জ কার্ড, মিনিট কার্ড সবই পাওয়া যায় ক্যাম্পে। ফলে ক্যাম্পের যেকোনো ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে জেনে যায় মিয়ানমার। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার জন্য এটি বড়ই উদ্বেগের। পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর হওয়ার আগেই সীমান্তপ্রাচীর ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ক্যাম্পে নজরদারি বাড়াতে হবে। ক্যাম্প ও সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে হবে। শিবিরে রাতের বেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কাজটা যত কঠিনই হোক না কেন, শিবিরে ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আরসা ও আল-ইয়াকিনের সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসীরাও জড়িয়ে পড়েছে। এই চক্র ভাঙতে হবে, নইলে সমূহ বিপদ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ওষ্ঠসেবার বদলে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার বিরুদ্ধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার (ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট—এনইউজি) গঠিত হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের শর্ত দিয়ে এনইউজে-কে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাবাসনকে ত্বরান্বিত করতে পারে। সবার অনুধাবন করা উচিত আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানে উগ্রবাদের উত্থান যেমন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তেমনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্তের নিরাপত্তাহীনতা শুধু বাংলাদেশ নয়—গোটা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করছে।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021