1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ‘এন্ডোর্স’ করা ইস্যুতে দু’পক্ষের অস্বস্তি - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ‘এন্ডোর্স’ করা ইস্যুতে দু’পক্ষের অস্বস্তি - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ‘এন্ডোর্স’ করা ইস্যুতে দু’পক্ষের অস্বস্তি

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

হাসান মোরশেদ

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ‘এন্ডোর্স’ করা ইস্যুতে দু’পক্ষের অস্বস্তি এবং অপরাধবোধ লক্ষণীয়। প্রথম পক্ষ কর্নেল তাহের সমর্থক গোষ্ঠী। ইচ্ছা করেই জাসদ সমর্থক লিখিনি। আমার বিশ্লেষণ বলে, জাসদে রাজনৈতিক কর্মী ও মিলিট্যান্ট কর্মীদের দুইটি ধারা ছিলো। তাহের পরের ধারার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তাহেরের যে রাজনৈতিক দর্শন মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে সেটা ঠিক জাসদীয় নয়। সিরাজুল আলম খান জাসদকে একটা জঙ্গি চেহারা দেওয়ার জন্য তাহেরকে ইনক্লুড করেছিলেন। তাহেরের যোগাযোগ ছিলো সিরাজ শিকদারের সঙ্গে স্বাধীনতার আগে থেকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে শিকদারের মিলিট্যান্টদের তিনি ট্রেনিংও দিয়েছেন তখন।

আমার ধারণা এই যোগাযোগ মুক্তিযুদ্ধের পরেও ছিলো, যদিও জাসদ এবং সর্বহারা পার্টির ক্যাডাররা পরস্পরকে দেদারসে খুন করেছে। বাহাত্তরে জাসদ জন্ম নিয়েছিলো নিয়মতান্ত্রিক প্রকাশ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে। ’৭৩ এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছিলো। কিন্তু ’৭৪ এ কর্নেল তাহের ও তাঁর ভাইদের নেতৃত্বে জাসদ সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে গণবাহিনী। উদ্দেশ্য সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করা। একটা আইনানুগ সরকারকে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে যখন উৎখাতের কার্যক্রম শুরু হয় তখন আর কিছু বাকি থাকে না। হয় মারো নয় মরো। ১৫ আগস্ট ফারুক রশীদ গং যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করতো, যদি গণবাহিনী আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধু সরকারকে সশস্ত্রভাবে উৎখাতের সুযোগ পেতো তাহলে তাদের হাতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাÐ ঘটতো নাÑ এই নিশ্চয়তা কে দেবে?

মুক্তিযুদ্ধের পর মওলানা ভাসানী ছিলেন রাজনৈতিকভাবে শূন্য। ’৭০-এর নির্বাচনের আগেই তার মূল শক্তি মাওবাদী কমিউনিস্ট উপদলগুলো তাঁকে ত্যাগ করে জনযুদ্ধ শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর মওলানার সমস্ত চিন্তা সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। শেখ মুজিবুর রহমান যখন ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের ঘোষণা দিয়েছেন মওলানা তখন হুমকি দিয়েছেন- সংবিধান হতে হবে কোরআন সুন্নাহর আলোকে। মাসে মাসে ভাতা পাঠিয়ে মওলানাকে সামলাতেন শেখ মুজিব। সন্তোষে নিয়মিত যাওয়া আসা ছিলো সিরাজ শিকদারের। শিকদার বাংলাদেশের স্বাধীনতা না মেনে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। ’৭৩-এর বিজয় দিবসের দিনে সিরাজ শিকদার হরতাল আহŸান করেছেন। এই হরতাল ঘোষণা সমর্থন করেছেন মওলানা ভাসানী। প্রকাশ্য জনসভায় বলেছেন, যারা সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে তাদের জন্য তাঁর দোয়া আছে, বয়স কম থাকলে তিনিও তাদের সঙ্গে যোগ দিতেন। মওলানা ভাসানী সমর্থিত এই সশস্ত্র তৎপরতার উদ্দেশ্য কী ছিলো? ফুল ছুড়ে দিয়ে শেখ মুজিবকে ক্ষমতা থেকে সরানো? নাকি হত্যা, রক্তপাত অবশ্যম্ভাবী ছিলো যদি তারা সেরকম শক্তিশালী হতে পারতো?

কর্নেল তাহের যে রাজনীতি করেছেন সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট সকালে রেডিও স্টেশনে গিয়ে বঙ্গবন্ধু খুনিদের পাশে বসা কিংবা ‘শেখ মুজিবের লাশ কেন বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলে দিলো না’- এই উষ্মা প্রকাশ করা একেবারেই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলে তাহের পরিবার এখন আওয়ামী লীগের ছুড়ে দেওয়া লভ্যাংশের ভাগীদার। স্বাভাবিক তাঁদের অস্বস্তি আছে, তাঁদের দায় আছে এখন প্রমাণের যে বিরোধিতা করলেও তাহের আসলে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করতেন। মওলানা ভাসানী যে রাজনীতিকে আশ্রয় দিতেন সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাককে অভিনন্দন জানানো খুবই স্বাভাবিক। অথচ অস্বস্তিতে ভোগা তাঁর মুরিদরা বলেন, সেই বিবৃতি নাকি ইত্তেফাক গোষ্ঠীর কারসাজি, তিনি আসলে এই বিবৃতি দেননি। অথচ তারাই বলেন মওলানার ‘খামোশ’ গর্জনে নাকি আইয়ুব খানও প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলতো। মোশতাকের বিরুদ্ধে ‘খামোশ’ গর্জনের সাহস মওলানার হয়নি। ১৫ আগস্টের পর মওলানা বেঁচেছিলেন এক বছর তিন মাস। এর ভেতরে ফারাক্কা বিরোধী মার্চের মতো বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, ময়মনসিংহ সীমান্তে গিয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেছেন কিন্তু এক বছর তিন মাসের মধ্যে কোথাও তিনি বলেননি, উক্ত বিবৃতি তাঁর নয়।

কর্নেল তাহের ও মওলানা ভাসানীর এই সমর্থকদের চেয়ে আমার কাছে খুনি ফারুক রশীদের সমর্থকদের সৎ মনে হয়। তারা স্পষ্টভাবে বলে, হ্যাঁ শেখ মুজিবকে তারা হত্যা করেছে। তাহের ও ভাসানী সমর্থকদেরও এই ইস্যুতে সৎ হওয়া উচিত। শেখ মুজিবকে সশস্ত্র পন্থায় উৎখাতের রাজনীতি করেছেন দু’জনই। দু’জনের দলবলের হাতেই শেখ মুজিব নিহত হতে পারতেন। তাই মুজিব নিহত হওয়ার পর তাদের দুজনের প্রতিক্রিয়ার যে দলিল পাওয়া যায় সেটাই স্বাভাবিক, ব্যতিক্রম কিছু নয়। বরং তাহের সমর্থক হয়ে, ভাসানী সমর্থক হয়ে শেখ মুজিবকেও ভালোবাসার ভং করাটা অস্বাভাবিক, কৃত্রিম, অগ্রহণযোগ্য। অত ভালোবাসার দক্কার কী, বলেন দেখি।

হাসান মোরশেদ: লেখক ও গবেষক





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021