1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
জমি স্বল্পতায় পরিকল্পনা করা হচ্ছে ভাসমান সৌরবিদ্যুতের - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
জমি স্বল্পতায় পরিকল্পনা করা হচ্ছে ভাসমান সৌরবিদ্যুতের - ebarta24.com
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

জমি স্বল্পতায় পরিকল্পনা করা হচ্ছে ভাসমান সৌরবিদ্যুতের

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেয়া হচ্ছে বেশি। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। তবে বৃহৎ ও বাণিজ্যিকভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হয় জমির স্বল্পতাকে। এ কারণে জমির ব্যবহার কমাতে বিকল্প হিসেবে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ বা ‘ফ্লোটিং সোলার টেকনোলজি’ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) দেশের তিনটি স্থানে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। এ সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দেশের তিনটি জেলা দিনাজপুর, ঝিনাইদহ ও যশোরে মোট ৬১ মেগাওয়াট সক্ষমতার ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ করা গেলে সাফল্য পাওয়া যাবে। এছাড়া পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে এডিবি। এ স্থানটিকেও বৃহৎ ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে দৈনিক ৭৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। নবায়নযোগ্য উৎসগুলোর মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ। প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জমির প্রয়োজন পড়ে প্রায় তিন একর। জনবহুল দেশে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে পর্যাপ্ত অকৃষি, অনাবাদি ও পতিত ভূমি পাওয়া কঠিন। এছাড়া আবাদি জমি ব্যবহার করে পরিবেশ উপযোগী বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এ প্রযুক্তির কথা ভাবছে সরকার।

এ বিষয়ে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি। সারা দেশে কোথায় কোথায় এ ধরনের প্রকল্প নেয়া যেতে পারে, তার একটা প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি। এছাড়া পরিপূর্ণভাবে একটি করেছি বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির আওতাধীন এলাকায়। ওখানে ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি ভাসমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা রয়েছে, তবে প্রকল্প শেষ না করা পর্যন্ত বলা যাবে না কতটুকু উপযোগী হবে।

সাধারণত সৌর থেকে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো ৩০ টাকার মতো খরচ হয়। এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গেলে জমির মূল্য, উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুতের উপকরণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় এবং মেয়াদ হিসাব করে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেশি হয়।

তথ্যমতে, ভাসমান পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমির চেয়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ খরচ বেশি হয়। মূলত জলাশয়ের ওপর সোলার প্যানেল বসানোর অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হয় বেশি। তবে বৃহৎ আকারে বিনিয়োগ করা গেলে খরচ কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশে এখনো ভাসমান সৌর প্রকল্প-সংক্রান্ত বড় ধরনের কোনো প্রকল্প নেয়া হয়নি। বাগেরহাটের মোংলায় ১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার একটি ভাসমান সৌর প্রকল্প রয়েছে। ২০১৯ সালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় এ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। নেট মিটারিং ব্যবহার করে সেখানকার পানি পরিশোধনাগারে এ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এডিবির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বেশকিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় বৃহৎ আকারে এ ধরনের প্রকল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার জটিলতা রয়েছে।

স্রেডার সৌরবিদ্যুতের রোডম্যাপের খসড়া অনুযায়ী, সারা দেশে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে ১২টি স্থানের ৩ হাজার ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গা দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর তীরবর্তী। এসব এলাকা কাজে লাগিয়ে অন্তত ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্যতাই বেশি।

ভাসমান সোলার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বে প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করে জাপান। জাপানের পথ অনুসরণ করে ইতালি, স্পেন, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতও ২০১৮ সালে মধ্যপ্রদেশে ২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্পে জলাধার ব্যবহার হয়েছে ১০০ একর জমির সমপরিমাণ।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৃহদায়তন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আরো জরিপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নদীমাতৃক দেশ হিসেবে এ ধরনের প্রকল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও সারা বছর পানি থাকে এমন জায়গা আগে চিহ্নিত করতে হবে।

এ বিষয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশেষত বিভিন্ন নদী, খাল, বিল ও জলাশয় ব্যবহার করে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরো বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন। আসলে কতটুকু সম্ভাবনা আছে, তার বাস্তব চিত্র উঠে আসা দরকার। বিশেষত যেসব এলাকায় সারা বছর পানি থাকে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করা দরকার।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021