রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৩ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
শেখ হাসিনাকে জন্মদিনে মোদী পাঠালেন ফুল, চীনের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন

টিউলিপ সিদ্দিকীর বক্তব্য ও কিছু কথা

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৭

লিখেছেন: কনক মজুমদার
ইরানের কারাগারে আটককৃত যুক্তরাজ্যের নাগরিক নাজানিন জাঘারি রাটক্লিফ এর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ফোর এর সাংবাদিকের করা আহমাদ বিন কাশেম আরমানের গুম থাকারর ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেকে বাংলাদেশি কেউ না বলে এমন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী।

বাংলাদেশে এত মানুষ থাকতে ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ফোর আরমানের ব্যাপারে প্রশ্ন করে জানতে চাওয়ার উদ্দেশ্য কী?

আপনারা দুই মিনিট চিন্তা করুণ এরপর বাকি লিখাটা পড়তে পারেন।

আগে জেনে নেওয়া যাক আহমাদ বিন কাশেম আরমানের ব্যাপারে। এই আরমান হল যুদ্ধাপরাধীর দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মীর কাশেমের ছেলে। মীর কাশেম জামায়ত ইসলামী বাংলাদেশ নামক দলের বড় ডোনার ছিল। আপনাদের নিশ্চয় ভুলে যাওয়ার কথা নয় এই মীর কাশেম আলী নিজের এবং পুরো জামাতের নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দেশী-বিদেশী লবিং লাগিয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। যার মধ্যে ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেবিড বার্গম্যান একজন। এখন সেই লবিং সরকার উৎখাত করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এবার কষ্ট করে একটু মিলিয়ে নিন। সেই লবিং-এর টাকার জোড়েই সম্পূর্ণ এখতিয়ার বর্হিভূত প্রশ্ন করেছে। এখতিয়ার বর্হিভূত বলছি এই কারণে আরমান কোন ব্রিটিশ নাগরিক না যে তাকে বাংলাদেশ সরকার আটক করে রেখেছে তার জন্য ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী কে প্রশ্ন করা হয়েছে। তাছাড়া টিউলিপ সিদ্দিকী বাংলাদেশের নয় ব্রিটিশ জনপ্রতিনিধি।

তাহলে প্রশ্নটা টিউলিপ সিদ্দিকী কে কেন হয়েছে?

টিউলিপ সিদ্দিকীকে বাংলাদেশীদের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। টিউলিপ সিদ্দিকী জন্মসূত্রে ব্রিটিশ। মা-বাবার জন্ম বাংলাদেশে হলেও টিউলিপ নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করতে পারেন না। তাছাড়া তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বার। ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে তিনি বাধ্য, বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করলে সেটা তাঁর জন্মস্থানের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতাই হতো, ব্রিটিশরা তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নিত না।

বারাক ওবামার জন্ম আমেরিকার হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনলুলুতে। তিনি মার্কিনি। বাবার জন্ম কেনিয়ায় হলেও বারাক ওবামা নিজেকে যেমন কেনিয়ান দাবি করতে পারেন না, করলে সেটা তাঁর নিজের জন্মস্থানের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হতো; মার্কিনিরা তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নিত না।

টিউলিপ যদি নিজের পরিচয়কে ব্রিটিশ না দিয়ে বাংলাদেশি দিতেন তাহলে কী অবস্থা হতো? নিশ্চিতভাবেই তিনি তাঁর জাতীয়তাকে অস্বীকারের অভিযোগে অভিযুক্ত হতেন; সেক্ষেত্রে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মেম্বার পদে থাকাটা তাঁর জন্যে হয়ত কঠিন হয়ে ওঠত, এবং এপরিণতিটা স্বাভাবিকই।

আমরা টিউলিপ, রুশনারা, রূপাদের নির্ভেজাল বাংলাদেশি ভাবছি। ভাবছি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। কিন্তু তাঁদের প্রধান পরিচয় যে ব্রিটিশ নাগরিক সেটা ভুলতে বসেছি। তাই স্বাভাবিক সত্য উচ্চারণকে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। ভাবছি আমাদেরকে অস্বীকার করেছেন তাঁরা। অথচ তাঁরা সত্যকে অস্বীকার করেননি, সত্য-স্বাভাবিক কথাটাই বলছেন।

যারা আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধু কে ভালোবাসে তাদের কাছে টিউলিপের বড় পরিচয় হল সে বঙ্গবন্ধুর নাতনি। তাই তাদের কাছে বিষয়টা একটু খারাপই লাগতেছে। তথাপি সে যে ব্রিটেনের নাগরিক ব্রিটিশ জনপ্রতিনিধি সেটা ভুলে গেলেও চলবে না।

টিউলিপের কি বাংলাদেশ সরাকারে কোন ভূমিকা রাখতে পারার কথা?

হ্যাঁ রাখতে পারে যেহেতু তার আপন খালা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেউ সুপারিশ করলেই উনি আইন-আদালতের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নজির নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব সহ কতশত ফোন কল বিবৃতির থোরাই কেয়ার করেছেন। সুতরাং ব্যক্তি টিউলিপ তাকে অনুরোধ করুক আর না করুক, তাতে কোন ফল আশাকরা বোকামী হোক সে বোনের মেয়ে।

টিউলিপ সিদ্দিকীর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার কিছু দেখি না। তবে টিউলিপ সিদ্দিকী আরও কৌশলী হয়ে সাংবাদিক কে ফেইস করতে পারতেন। তিনি সাংবাদিকের কাছে উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে বলতে পারতেন আরমান কে যে গুম করার এভিডেন্স আছে কিনা? প্রমাণ থাকলে যেন ব্রিটিশ সরকারের নিকট প্রেস করে। ব্রিটিশ সরকার এই ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ করবে।

আদৌ কী আহমাদ বিন কাশেম আরমান গুম হয়েছেন নাকি আত্মগোপনে আছেন?


আরও সংবাদ