1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে দিয়াজের মা - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে দিয়াজের মা - ebarta24.com
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে দিয়াজের মা

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭
বিশেষ সংবাদদাতা:
সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে ৪ দিনের টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা। শুক্রবার থেকে নগরীর একটি হাসপাতালে ভর্তি জাহেদা আমিন, কোনো খাবার খেতে পারছেন না। এদিকে দিয়াজ হত্যার তদন্ত নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় হতাশ তার পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা।সন্তানের হত্যার বিচারের দাবিতে টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে শয্যা শায়ী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা। দিয়াজ ইরফান চৌধুরী (২৭) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ‌্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে দিয়াজ সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

শহীদ মিনারে সন্তান হত্যার বিচার দাবীতে দিয়াজের মায়ের আহাজারি

গত বছরের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দুই নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  পুলিশ দিয়াজ আত্মহত্যা করেছে বলে বক্তব্য দিলেও শুরু থেকেই তার পরিবার অভিযোগ করে আসছিল, দিয়াজকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ প্রথম দফা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।  তারা আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদন দিলে সেটি দিয়াজের পরিবার প্রত্যাখান করে।
২৪ নভেম্বর আদালতে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।  আদালতের নির্দেশে ওই মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে  আছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আবুল মনসুর জামশেদ, বর্তমান সভাপতি টিপু, সাবেক সহকারী আনোয়ার চৌধুরী,  প্রক্টর  জামশেদুল আলম চৌধুরী, স্থগিত কমিটির প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আলম জিসান, ছাত্রলীগ কর্মী আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আব্দুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান।  এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশে দিয়াজের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।  গত ৩০ জুলাই দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পায় সিআইডি।  প্রতিবেদনে দিয়াজের মৃত্যু আঘাতপূর্বক শ্বাসরোধজিত বলে উল্লেখ করা হয়।২ আগস্ট ময়নাতদন্ত এবং তদন্তের অগ্রবর্তী প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।  এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ভিকটিম দিয়াজ ইরফান চৌধুরীকে আঘাতপূর্বক শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।এক বছর ধরে ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কখনো মন্ত্রী-সংসদ সদস্য, কখনো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতা, আবার কখনো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
সোমবার ছেলের কবরের মাটি ছুঁয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার আবার পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে কার্যালয়ে ঘুরেছেন অনশনরত অবস্থায়। এ যেন এক যুদ্ধ। আর এ যুদ্ধ অসহায় মা জাহেদা আমিন চৌধুরীর।আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে, বঙ্গবন্ধু চত্বর ও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাহেদা আমিন অনশন করেন। গতকাল সকালে পরিবারের সদস্যরা কেউ ঘুম থেকে ওঠার আগেই আবার বের হয়ে যান সন্তানের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি নিয়ে। পরিবারের লোকজন দেখে তিনি (দিয়াজের মা) বাসায় নেই। প্রথমে গেছেন নগরীর খুলশী এলাকায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে। সেখানে ঢুকতে না পেরে দুপুরে যান হালিশহর ছোটপুল এলাকায় পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে নিজের দাবি ও আর্তির কথা তুলে ধরেন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে যান হাটহাজারী মডেল থানায়। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ওসিকে না পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে থানা থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান জাহেদা। সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত কিছুই মুখে দেননি তিনি। ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দিয়াজ


দিয়াজের বড় বোন , চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ,এডভোকেট জুবাইদা সারোয়ার নিপা , গত ২৯ শে নভেম্বর চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেন,

“মারে বুজতে পারি আপনার কষ্ট।কিন্তু আমি একা একা আর কি করবো?আমি ব্যার্থ।দিয়াজ বেচেঁ থাকলে হয়তো অনেক কিছুই করতো আপনার জন্য।কিন্তু আমিতো আর দিয়াজনা।সবাই সব ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়না।আজ আপনি পাগল হয়ে না খেয়ে পথে পথে ঘুরছেন।মিডিয়ায় নিউজ হচ্ছে।নিরবে আমি চোখের পানি ফেলছি আর ঢাকা-চট্টগ্রাম নেতাদের,পুলিশের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি।তারমধ্যে বারের কিছু দায়িত্ব মাথার উপর বোঝার মত নিয়ে বসে আছি।মারে ওমা আজ তিনদিন আপনি না খেয়ে।কেউতো আসলোনা আপনার খবর নিতে।দিয়াজতো কোন নেতা,কর্মী কারো হৃদয়ে এতটুকু জায়গা করতে পারেনি যে তার হত্যার পর তার মায়ের দায়িত্ব কেউ নিবে।চবির ভিসি,প্রক্টর,হাটহাজারী থানার ওসি,দিয়াজের বাংলার মুখ কারোরি আপনার অনশনে কিছু এসে যায়না।শুনেছি দিয়াজের খুনীরা ক্যাম্পাসে আসলে দিয়াজের গ্রুপের সাথে,থানার ওসির সাথে,চবি প্রক্টরের সাথে আলাপ করে আসে যাতে কেউ তাদের বিরক্ত না করে।তাইতো আপনি নিজের হাতে ঝুপড়ীতে বসা আসামীদের পুলিশকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার পরও এরেস্ট না করে প্রক্টরের অফিসে বসে ছিল।প্রক্টর নিজ গাড়ীতে করে আসামীদের ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল।কি করবেন মা?৯৭ কোটি টাকার কাজ….লোভ সামলানো কস্টের।দিয়াজ মারা গেছে,সেটাকে বিক্রী করে আজ তারা কোটিপতি।তাদের হৃদয় বলতে কিছু নেই।টাকার জন্য তারা নিজের মাকেও বিক্রী করে দিতে পারবে।ওমা কিভাবে আপনার অনশন ভাঙ্গাবো?আপনাকে কথা দিয়েছিলাম আসামীদের এরেস্ট করাবো।পারিনি।আমি ব্যার্থ……আমি দিয়াজের ব্যার্থ বোন।

সবার মনে এখন শুধু একটিই প্রশ্ন, আসলেই কি দিয়াজ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার পাবেন এই অসহায় সন্তানহারা মা? নাকি অতীতের সকল ক্যাম্পাসভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের মতোই,  বিচারের বাণী এবারও নীরবেই কাঁদবে? সেটা দেখার অপেক্ষায় জাতি।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021