শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:০০ অপরাহ্ন

সিলেট বিএনপির কোন্দল চরমে

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

সিলেটে বিএনপির বিবাদ অনেক দিনের। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকার কারণে গৃহবিবাদে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। জেলা বিএনপির কমিটি ঘিরে এই বিভেদ আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

সোমবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কমিটির নয় সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে তারা জায়গীরদারকে অযোগ্য আখ্যা দিয়ে নানা অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় বিরোধ হঠাৎ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলন করা নেতাদের বিপথগামী বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জায়গীরদার। মঙ্গলবার তিনি প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, তারা বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে।

সংবাদ সম্মলনে অংশ নেয়া এমরান আহমদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, গত বছর ২ অক্টোবর কামরুল হুদা জায়গীরদারকে আহ্বায়ক করে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরই ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দেয়। ক্ষুদ্ধ অনেকেই কমিটির কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। শুরু থেকেই বিরোধ চলছিল। এতদিন ছিল গোপনে, এখন তা প্রকাশ্যে।

তিনি বলেন, আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। ১৪ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। তবে সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এতে বিভক্তিও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সোমবার বিকেলে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এক বছরেও তা সম্ভব হয়নি। আহ্বায়ক জায়গীরদার সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের নির্দেশে চলছেন, তাদের সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছেন।

‘তাদের নির্দেশে তিনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২১ সদস্যের একপেশে উপজেলা কমিটি গঠন করেন। প্রতিবাদের মুখে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল এসব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে। তাদের কারণে জেলা বিএনপি গভীর সংকটের মুখে পড়ে।’

অ্যাডভোকেট আশিক অভিযোগ করেন, সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক আহবায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে না জানিয়ে বিভিন্ন সমন্বয় কমিটি গঠন করেন। ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর আবার নিজেদের গ্রুপের লোকজনের নাম ঢুকিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান, আহমেদুর রহমান চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন লস্কর, ইশতিয়াক সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন ও মাহবুবুল হক চৌধুরী।

সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বলেন, ‘কতিপয় বিপথগামী নেতাকর্মী জেলা বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টি করতে সরকারের ইন্ধনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

‘জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে কেন্দ্রের নির্দেশে জেলার সব উপজেলা ও পৌর ইউনিট করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি একটি অর্থবহ কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে।’

নয় নেতার সংবাদ সম্মেলনকে দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী উল্লেখ করে জায়গীরদার বলেন, ‘এর সঙ্গে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীর সম্পর্ক নেই। বিপথগামীদের ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এমরান আহমদ চৌধুরী দলের বিরোধ নিয়ে নিউজবাংলাকে আরও বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিভাগীয় নেতদের উদাসীনতায় সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন দল থেকে আসা নেতারা শীর্ষ পদে বসে এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের স্বার্থেই আমরা এই সংবাদ সম্মেলন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির পথ রুদ্ধ করে চক্রান্তকারীরা আজ দলটি কুক্ষিগত করে রেখেছে। নিজেদের সুবিধামতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। একটি শক্তিশালী কাউন্সিলের জন্য এসব কার্যক্রম কঠিন অন্তরায়।’

বিরোধ নিরসনে শিগগিরই কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এমরান আহমদ চৌধুরী।


আরও সংবাদ