[…]ছাত্রনেতারা হলের রুম পর্যন্ত ভাড়া দেয় : হাইকোর্ট […]ছাত্রনেতারা হলের রুম পর্যন্ত ভাড়া দেয় : হাইকোর্ট

ছাত্রনেতারা হলের রুম পর্যন্ত ভাড়া দেয় : হাইকোর্ট

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ৭, ২০১৭ , ৪:২০ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: সংবাদ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর অনলাইন: পাঁচ বছর আগে সংঘটিত পুরান ঢাকার দর্জি ‘বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড’ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, “বর্তমানে ছাত্রনেতারা হলের রুম পর্যন্ত ভাড়া দেয়। তারা দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও পলাতক রাজন তালুকদারের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দুজন আপিল করেছিলেন, তারা হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন।

বিশ্বজিতের লাশের সুরতহাল করার ক্ষেত্রে সূত্রাপুর থানার এসআই জাহিদুল হকের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা তা তদন্তের জন্য আইজিপিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া ময়নাতদন্ত করার ক্ষেত্রে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের কোনো গাফিলতি ছিল কি না- তা তদন্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ডেন্টাল কাউন্সিলকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যৃদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের শুনানি করে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেয়।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ছবি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আসামিরা ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হওয়ায় সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, এটা পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড না হলেও আসামিদের সম্মিলিত হামলার ফলেই বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে ‘গাফিলতির’ কারণে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা হাইকোর্টে এসে কমে গেছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে আঘাতের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আসামিদের জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বর্ণনার মিল পায়নি আদালত।

জানা গেছে, পলাতক যে ১১ আসামির বিষয়ে হাই কোর্ট রায়ে কোনো মন্তব্য করেনি, গ্রেপ্তার হলে বা আত্মসমর্পণ করলে তাদের বিষয়ে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আসামীদের আটজনের মধ্যে দুজন খালাস পাওয়ায় বিশ্বজিতের পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। এ প্রসঙ্গে খালাস পাওয়া মোস্তফার আইনজীবী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সবুজ সাংবাদিকদের বলেন, বিচারিক আদালত অন্য অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে যাবজজ্জীবন দিয়েছিল। হাইকোর্টে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি তাই তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

সংবাদ - বিভাগের আরও সংবাদ