[…]সরকার বা বিরোধী দলের ট্র্যাপে আমরা পড়ব না: প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা […]সরকার বা বিরোধী দলের ট্র্যাপে আমরা পড়ব না: প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা

সরকার বা বিরোধী দলের ট্র্যাপে আমরা পড়ব না: প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ১০, ২০১৭ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

ইবার্তা অনলাইন ডেস্ক: আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আইন কমিশনের বক্তব্য ও প্রকাশিত বিভিন্ন সমালোচনামূলক প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনার পর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, রায় ঘোষণার পর রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা যে কেউ করতে পারেন। তা না হলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে আমরা সরকার বা বিরোধী দল- কারও ট্র্যাপে পড়ব না।’

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এজলাসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তার নজরে আনেন।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আইন কমিশনের পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়েছে, রায় পূর্বধারণাপ্রসূত এবং বাংলাদেশ এখন বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার জন্য বলছি।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আপনারা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আপনারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বলছেন। তবে রায় ঘোষণার পর গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। গঠনমূলক সমালোচনা না হলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রায় হওয়ার পর আমরা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করি।

এ সময় জয়নুল আবেদিন বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়কে নিয়ে যেভাবে বলা হয়েছে, তা আদালত অবমাননাকর।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এই বিচার বিভাগকে রক্ষা করতে হলে কোনো রাজনীতি আনবেন না। আমরা রায় দিয়ে দিয়েছি। বিচার বিভাগ কোনো রিজয়েন্ডারও দেবে না।

আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো রেজল্যুশন আনা হয়নি।

এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন আইন কমিশনের বক্তব্যকে আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে আদালত অবমাননার রুল ইস্যুর কথা বলেন।
এ সময় প্রধান বিচারপতি সংযত আচরণ করার উপদেশ দিয়ে বলেন, রায় নিয়ে কেউ পলিটিকস করবেন না।

জয়নাল আবেদিন বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এভাবে বলতে পারেন না।

উল্লেখ্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আর জনগণের প্রজাতন্ত্র নয়, বরং এটা বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেয়া ওই রায় ছিল পূর্বধারণাপ্রসূত এবং আগে থেকে চিন্তাভাবনার ফসল।
ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মন্তব্য ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

সাবেক এই বিচারপতি বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে দেখেছি, এতে অনেক অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য রয়েছে। রায়ে সংবিধানের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনতে হলে আবারও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। মূল সংবিধানে যেহেতু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল না, সেহেতু এটা রাখা সংবিধান পরিপন্থী।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রায়ে পাতার পর পাতা অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করা হয়েছে। প্রায় চারশ পৃষ্ঠা অপ্রাসঙ্গিক লেখা হয়েছে রায়ে। যা বাঞ্ছনীয় নয়, প্রয়োজন ছিল না। অযাচিত মন্তব্য করে রায়ের কলেবর বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

ফিচার - বিভাগের আরও সংবাদ