[…]সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন […]সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন

সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ১৭, ২০১৭ , ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: সংবাদ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত নস্যাতের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদৎ বার্ষিকী আলোচনা সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আর কেউ যেন বাংলাদেশের মানুষের উন্নত জীবন পাবার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা যেন কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’

১৫ আগস্টের শহীদদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দোয়া করবেন এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আর কেউ যেন বাংলাদেশের মানুষের উন্নত জীবন পাবার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা যেন কেড়ে নিতে না পারে।

তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করবো। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো, সেটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, কিন্তু এখনো কিছু লোক দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে’।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যহত করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’৯০ এ গণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম। কিন্তু সেটাকে আবার ব্যহত করে খালেদা জিয়া ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে। সেখানে জনগণ আন্দোলন করে সংগ্রাম করে, মাত্র দেড় মাস সে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিল এবং তার পতন ঘটে। পদত্যাগে বাধ্য হয় খালেদা জিয়া। আবার নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করে এবং আওয়ামী লীগ সরকার দেখিয়ে দিয়েছে সরকার যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে তাহলে জনগণের কল্যাণ সম্ভব।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে ’৯৬ পরবর্তি আওয়ামী লীগ সরকার নিবেদিত প্রাণ ছিল বলে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেও বাংলার মানুষের মাঝে আবার একটা প্রেরণা ও উৎসাহ জাগাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু আবার সেটা আঘাত প্রাপ্ত হলো ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরে এলো এবং আজকে ৮ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার পথে।
স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেচেঁ থাকা যে কতবড় কষ্ট তা একমাত্র যারা স্বজন হারিয়েছেন তারাই কেবল বুঝতে পারবেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরেও যে কাজ করে যাচ্ছি দেশের জন্য সেখানে প্রতি মুহূর্তেই একটা কথাই শুধু মনে করি-সেটা হলো এই দেশের মানুষের জন্যইতো আমার বাবা সারাজীবন জেল, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছেন। আর এদেশের মানুষের জন্যই আমার বাবা, মা, ভাইয়েরা জীবন দিয়ে গেছেন। কাজেই জীবনে আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, একটাই আছে। আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো যদি আমি করে যেতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘মানুষকে যদি একটু সুন্দর উন্নত জীবন দিতে পারি, তাঁদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি। অন্তত মৃত্যুর পরে যদি কখনো দেখা হয় আব্বাকে যেন আমি বলতে পারি- দুঃখী মানুষের জন্য এইটুকু কাজ আমি করে আসতে পেরেছি, সেইটুকুই আমার চাওয়া।’

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড অত্যন্ত পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্য এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত খুনী মোশতাক। আর খুনী মোশতাকের দোসর ছিল জিয়াউর রহমান। কারণ খুনী মোশতাক অবৈধভাবে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেয়। আর জিয়াউর রহমানকে সেনা প্রধান করে। তার কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল যে, সেনা প্রধান হিসেবে সাথে সাথেই তাকে খুনী মোশতাক নিয়োগ দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটা হত্যাকান্ড নয়, দেশকে পুনরায় পাকিস্তানী ভাবধারায় নিয়ে যাবার উদ্যোগেরও অংশ। যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, এই মাটিতে জন্ম নিয়েও যারা হানাদারদের ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, ’৭৫ এর পর তারাই ক্ষমতায় এসেছিল।
তিনি বলেন, যারা রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী গড়ে তুলেছিল, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, হানাদারবাহিনীকে পথ চিনিয়ে দেশের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে নিয়ে গিয়েছিল, আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানী হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল, দিনের পর দিন তাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছিল, বাংলাদেশে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে ছারখার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তারাই তাদের এদেশীয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে এই নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে খুনীদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল জিয়াউর রহমান। যেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন- অনেকের সাজা হয়েছিল, অনেকে পাকিস্তানের পাসপোর্টে পাকিস্তানে বা বিদেশে ছিল তাদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা নিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। জিয়া একাধারে সেনা প্রধান ও চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিষ্ট্রেটর হলো। তখন তাদের (যুদ্ধাপরাধীদের) মুক্তি দিয়ে ক্ষমতায় বসালো।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার খুনীদের পুরস্কৃত করা প্রসঙ্গে বলেন, বারবার এই পুরস্কারের খেলা আমি দেখেছি। কেউ কেউ খুনিদেরকে দিয়ে দল গঠন করিয়েছে। ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, খুনী হুদা এবং শাহরিয়ার- এদেরকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। ইত্তেফাকে বসে মঈনুল হোসেন খুনীদের দিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করিয়েছিল। জিয়াউর রহমান এদের কাউকে প্রধানমন্ত্রী, কাউকে মন্ত্রী, উপদেষ্টা করেছিল। জেনারেল এরশাদ ঐ খুনি রশিদ-ফারুককে দিয়ে ফ্রিডম পার্টি তৈরী করে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছিল। আর খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ঐ খুনী রশিদ আর মেজর হুদাকে সংসদ সদস্য করে বিরোধী দলের চেয়ারে বসিয়েছিল। এই খুনীরাই এসব রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার সাথী হয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে যারা বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করে তাদের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫ থেকে ’৯৬ পর্যন্ত ২১টি বছর বঙ্গবন্ধুর নামটি মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হয়। জাতির পিতার একক প্রচেষ্টায় দেশ স্বাধীন হয়নি এটি সত্য। কিন্তু যার একক উদ্যোগ, প্রেরণা এবং সাংগঠনিক শক্তি এর নেপথ্যে ছিল তিনিই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানী বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর আক্রমণ চালানোর পরপরই জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পাকিস্তানীরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার বাড়ি আক্রমণ করে এবং তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেন সেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম বলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকেই দোষারোপ করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ইয়াহিয়া খান কিন্তু তাঁর ভাষণে আর কারো নাম বলেননি বা কাউকে দোষারোপ করেননি। জিয়াউর রহমানতো তার (ইয়াহিয়া) চাকরী করতো। একজন মেজর ছিল সেনাবাহিনীর। তাকে কি গ্রেফতার করেছিল বা তার কি চাকরী খেয়েছিল? তাও খায়নি। বঙ্গবন্ধুকেই তারা শত্রু হিসেবে দেখেছিল। তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় এবং প্রহসনের বিচার করে ফাঁসির রায়ে সই পর্যন্ত করেছিল।

শেখ হাসিনা ’৭৫ এর পর স্বাধীনতা বিরোধীদের বারবার দেশের ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, একবার চিন্তা করে দেখেন- আজকে কোন হত্যাকান্ড হলে সবাই সোচ্চার হন বিচারের জন্য। কই কেউতো একথা বলেন না যে, খুনীরা আমার পিতা, মাতা এবং শিশু রাসেলকে হত্যা করেছিল তাদের বিচার হোক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ দেশে একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলেই আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে। আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তিনিতো নিজের জীবনে কিছু চাননি। তিনিতো কিছুই নিয়ে যাননি, দিয়েই গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সাধারণ জীবন যাপনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ধানমন্ডির ঐ ছোট্ট বাড়িটা যেটা এখন আমরা বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম করেছি, আপনারা যারা যাননি, গিয়ে দেখে আসবেন কেমন সাদাসিদেভাবে বঙ্গবন্ধু জীবন যাপন করতেন। তিনিতো একটা দেশের রাষ্ট্রপতি, তিনিতো এই দেশটাকে স্বাধীন করেছেন। এখন হয়তো অনেকেই বিশ্বাস করবে না, এভাবে কি করে একটা দেশের সরকার প্রধান বসবাস করতো।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তি সময়ে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতাকে বিনা গোসল ও জানাজায় সৈনিকদের দাফনের চেষ্টার মর্মান্তিক বর্ণনা দেন। যা কার্ফ্যু চলাবস্থাতেও স্থানীয়দের বাঁধাতে সৈনিকরা করতে ব্যর্থ হয়। রিলিফের কাপড়ের পাড় ছিড়ে সেই পাড় দিয়ে সেদিন দাফন হয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যাচার, খুন, দুর্নীতি এটাই ছিল ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর কাজ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য যখনই পরিবর্তন হতে যায় তখনই চক্রান্ত শুরু করে অপশক্তি। এখন আবার চক্রান্তকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মহলের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন একটু সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, একটু আশার আলো দেখে এবং যারা এই মানুষের জন্য কাজ করে তাদের ওপরই যেন অশুভ শক্তি আঘাত হানতে চায়। নিজেরা নিজেদের জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, বুদ্ধিজীবী অনেক কিছুই ভাবেন আর কাজের সময় যত ধরনের অপকর্মকে তারা প্রশ্রয় দেন এবং উৎসাহিত করেন। কিন্তু কেন? প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, এদেশের মানুষের কি বেঁচে থাকার, একটু ভালো থাকার অধিকার নেই? তাঁদের নিজেদের জীবন মান উন্নত করার অধিকার নেই? তাঁরা কি একটু সুন্দরভাবেও বাঁচতে পারবে না?



নির্বাচন বার্তা