[…]চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; যমুনা ও তুলশীগঙ্গার পানি বিপদসীমার উপরে! […]চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; যমুনা ও তুলশীগঙ্গার পানি বিপদসীমার উপরে!

চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; যমুনা ও তুলশীগঙ্গার পানি বিপদসীমার উপরে!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ১৭, ২০১৭ , ১:০১ অপরাহ্ন
বিভাগ: সারাদেশ

ইবার্তা অনলাইন: ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় বিপদ সীমার ১৪৮ সেঃমিটার উপরে প্রবাহিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জের ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গঙ্গা অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মধ্যাঞ্চলের ঢাকার চতুর্দিকের ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সে.মি হতে ১৩৬ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়।

দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি প্রবাহের ৯০টি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষন অনুযায়ী ৬০টি পয়েন্টের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, হ্রাস পেয়েছে ২৬টি পয়েন্টে এবং ৪টি পয়েন্টের পানি প্রবাহ অপরিবর্তিত রয়েছে।
বুধবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ৯০টি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষন অনুযায়ী ২৯ পয়েন্টের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারতীয় অংশের আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ২৫ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেতে পারে । বাংলাদেশ অংশের উজানে (নুনখাওয়া, চিলমারী) আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। ভাটির অংশে, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে যা আগামী ২৪ ঘন্টায় কমতে শুরু করবে এবং সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে আগামী ২৪ ঘন্টায় স্থির হয়ে পরবর্তীতে হ্রাস পেতে শুরু করবে।

সিরাজগঞ্জ সদর, এনায়েতপুর ও বেলকুচি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ৪ হাজার ৮৩৭ হেক্টর আবাদি জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে।

জয়পুরহাটে তুলশীগঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বন্যা বা যেকোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনকে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন দফতরের ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণে দেখা যায়, রোপা আমন ধান ৮ হাজার হেক্টর, শাক সবজি ৫শ হেক্টর, পান ২ হেক্টর পানির নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশের উজানের তিনটি অববাহিকার মধ্যে গঙ্গায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের উজানের তিনটি পয়েন্টে (গোহাটি, পান্ডু,গোয়ালপাড়া) পানি হ্রাস পাচ্ছে ও ধুবরী পয়েন্ট পানি স্থিতিশীল রয়েছে। অপরদিকে মেঘনা অববাহিকায় পানি হ্রাস অব্যাহত আছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভারতীয় অংশের গোহাটিতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৮০ কি.মি. উজানে) ২৯ সে.মি, পান্ডুতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৬০ কি.মি. উজানে) ২৪ সে.মি , গোয়ালপাড়ায় (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ৯০ কি.মি. উজানে) ৯ সে.মি হ্রাস পেয়েছে এবং ধুবরীতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ২৫ কি.মি. উজানে) ৩ সেমি. বৃদ্ধি পেয়েছে তবে গতকাল সন্ধ্যা হতে ধুবরী পয়েন্টে পানি স্থিতিশীল রয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্রহ্মপুত্রের কুড়িগ্রামের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েণ্টে পানি হ্রাস পেয়েছে, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে স্থিতিশীল রয়েছে এবং সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জ, আরিচা পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ।

মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে , ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেঘনা অববাহিকার অধিকাংশ নদীর পানিও হ্রাস অব্যাহত আছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার (উজানের অংশ ব্যতীত) বন্যা পরিস্থিতি অবনতিশীল রয়েছে।
তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকার নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে, এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে ।

গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বর্তমানে বিপদসীমার প্রায় ০.৭৫ থেকে ১.৫০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উন্নতি অব্যাহত থাকবে ।

রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় শিশুরা স্কুলে আসতে পারছে না। স্কুলে শিক্ষার্থীরা আসতে না পারায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে বন্যা কবলিত জেলায় চাল ও অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।



নির্বাচন বার্তা