[…]বাড়ছে নদীর পানি, ঢাকা ঘিরে ফেলেছে বন্যা! […]বাড়ছে নদীর পানি, ঢাকা ঘিরে ফেলেছে বন্যা!

বাড়ছে নদীর পানি, ঢাকা ঘিরে ফেলেছে বন্যা!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ১৭, ২০১৭ , ২:৪৬ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পূর্বাভাসে বলেছে, ঢাকাসংলগ্ন শীতলক্ষ্যার পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাবে এবং পরবর্তী তিন-চার দিন তা আরো বাড়তে থাকবে। গতকালই পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপরে উঠেছে। এদিকে পদ্মার পানিও বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে মেঘনার পানি। আশপাশের সব নদ-নদীর পানিই বেড়ে যাচ্ছে দ্রুত। বন্যা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বন্যা মোকাবেলায় ঢাকার দায়িত্বশীল সব কর্তৃপক্ষকে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।

আগামী দু-তিন দিন পানি উজান থেকে যমুনা হয়ে মধ্যাঞ্চল থেকে কতটা দ্রুত নেমে যেতে যাবে তার উপর নির্ভর করছে ঢাকার বন্যা। যদি পানি নামার গতি মন্থর হলে কিংবা আবার টানা বর্ষণ ও উজানের পানি বাড়তে থাকলে বন্যা কবলিত হবে ঢাকা।।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ঢাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই কথা বলেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও।

বাংলাদেশে বন্যাসহ দুর্যোগে প্রতি বছর ৫৭০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণে অর্থনীতির ক্ষতি হয়ে থাকে। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহিত ঋণের অর্ধেক ব্যয় হয় প্রকল্পের কর্মকর্তাদের গাড়ি খাতে!

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা ঢাকাকে বন্যার কবল থেকে রক্ষায় সরকারের প্রস্তাবিত ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় বাঁধ নির্মাণের উপর জোর দিয়ে আসছেন। ডিএনডি বাধের ফলে রাজধানীর একটি অংশ বন্যা থেকে রক্ষা পেলেও অরক্ষিত রয়েছে ব্যাপক এলাকা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনায় পুরনো প্রকল্পটি নিয়ে আবার নতুন করে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। একটি চায়নিজ প্রতিষ্ঠান নতুন করে সমীক্ষা শুরু করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে এই প্রক্রিয়ায় ইস্টার্ন বাইপাস প্রকল্পটি আব্দুল্লাহপুর থেকে ডেমরা পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের কারণে ঢাকার একাংশ সুবিধা পেলেও বেশির ভাগ এলাকা থেকে গেছে অরক্ষিত। এ কারণে ১৯৯৮ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় বাঁধ ও বাইপাস’ প্রকল্পটির পরিকল্পনা করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রথমবারের প্রস্তাবে দুই হাজার ৪৭৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয়ের প্রকল্পটি তখনই একনেকে অনুমোদন করা হয়। এই টাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত শ কোটি টাকা রাখা হয় শুধু বাঁধ নির্মাণের জন্য। বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ আরো একাধিক দাতা সংস্থা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখায়। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নানামুখী সমীক্ষা চলে অনেক দিন। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকার টাকা না পাওয়ার অজুহাতে প্রকল্পটি স্থগিত করে দেয়। এর পর থেকে প্রতিবারই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তোড়জোড় শুরু হয়। ব্যয় পরিধিও সম্প্রসারিত হয়। তবে আগ্রহী দাতা সংস্থাগুলো পিছটান দেওয়ায় এই প্রকল্প এখনো আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তী সময়ে ওই প্রকল্প নতুন এক বৃহত্তর প্রকল্পের আওতায় নিয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে এর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা ধরে নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় জোনের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ড একা বাস্তবায়ন করবে না। আরো বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে একটি ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’ করা হবে। এটা অনেক বড় একটি প্রকল্প হওয়ায় সরকারকে অনেক দিক বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে। তবে এবার আমরা আশা রাখি, প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে। ”



নির্বাচন বার্তা