[…]নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য, ঋণ ও বীজ এবং শিক্ষার্থীদের বই দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী […]নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য, ঋণ ও বীজ এবং শিক্ষার্থীদের বই দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য, ঋণ ও বীজ এবং শিক্ষার্থীদের বই দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২০, ২০১৭ , ৮:০৮ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

(ইবার্তা অনলাইন:) দিনাজপুর ও কু‌ড়িগ্রা‌মে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় প্রশাসনসহ সকলে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

শনিবার পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত দেশের ৩০ জেলার ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৯ হেক্টর ফসলি জমি । ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন সারা দেশের ৯৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে।

সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়! চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় দফার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যেন জড়ো হওয়া বানভাসী মানুষদের মাঝে আশার আলো জাগিয়ে তোলে!

রোববার দিনাজপুর জেলা স্কুলে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর করে দেওয়া থেকে শুরু করে নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য, কৃষকদের ঋণ ও বীজ এবং শিক্ষার্থীদের নতুন বইও দেবে সরকার।

দিনাজপুর জেলা স্কুলে ত্রাণ বিতরণের আগে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বন্যায় যাদের ঘর ভেঙ্গেছে তাদের ঘর করে দেওয়া হবে, যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে তাদের ফসল না উঠা পর্যন্ত খাদ্য সহযোগিতা করা হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে কৃষিঋণসহ বীজ সরবরাহ করা হবে। বন্যার পানিতে যাদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে গেছে তাদের নতুন বই দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা হবে।

দিনাজপুরে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো। আমি সে সময় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।

তিনি বলেন, গত আট বছরে কোনো মঙ্গা হয়নি। ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে উত্তরাঞ্চলের এক সময়ের মঙ্গা দূর করেছিলাম। আমরা সব মানুষের জন্য খাদ্য-বাসস্থানের ব্যবস্থা করব।
বিরল উপজেলার তেঘরা উচ্চ বিদ্যালয় ও ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শণ ও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণের পর দিনাজপুর সার্কিট হাউজে দুপুরের নামাজ ও খাওয়া শেষ করে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজার রহমান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গা রাণী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

বন্যার্তদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে তাদের টিন প্রদানের পাশাপাশি নতুন করে বাড়ি-ঘর তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যে সমস্ত ছেলে-মেয়ে পড়ালেখা করতে পারেনি, বন্যায় যাদের বই-পত্র নষ্ট হয়েছে গেছে প্রয়োজনে তাদের নতুন করে বইপত্র প্রদান করা হবে।

রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বন্যার্ত মানুষদের প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি তেল, চিনি, লবণ, চিড়া, আধা কেজি মুড়ি এবং এক ডজন করে মোমবাতি ও দিয়াশালাই দেয়া হয়েছে।



নির্বাচন বার্তা