[…]ছাত্রশিবিরের দলীয় সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ […]ছাত্রশিবিরের দলীয় সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ

ছাত্রশিবিরের দলীয় সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২১, ২০১৭ , ১০:১০ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

বিশেষ প্রতিবেদন: বহুদিন থেকে প্রচলিত রয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে অন্য দলে অনুপ্রবেশ করে। দলের নির্দেশিত মিশনই তারা বাস্তবায়ন করে। গত কয়েক বছরে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির থেকে সরকারী দলে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এবার ছাত্র শিবিরের দলীয় অনুমোদন নিয়ে ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার লিখিত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিলেটের জকিগঞ্জের মো: গোলজার আহমেদ জকিগঞ্জ সরকারী বালক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রশিবিরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়। জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি হাসানুল হক বান্নার মাধ্যমে নিবেদিত কর্মী হিসেবে স্থান করে নেয়। ২০১৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে গোলজার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হয়ে পড়ে।

 

পাঁচটির বেশি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ এ হাসানুল হক বান্নাকে গ্রেফতার করা হলে বান্নার নির্দেশে ও পারিবারিক চাপে গোলজার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কিছুদিন পর জকিগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে। কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতার আশির্বাদে এ বছর ছাত্রলীগের জকিগঞ্জ সরকারী কলেজ শাখার যুগ্ন সম্পাদক নিযুক্ত হয় গোলজার।

ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে ছাত্রশিবির থেকে যোগ দেয়া গোলজারের পদ প্রাপ্তিতে ক্ষুব্ধ মূল ধারার নেতাকর্মীরা। কিন্তু সাড়া দেয়নি কেউ। জানা গেছে, পদ বাণিজ্যে লেনদেন হয়েছে মোটা অংকের টাকা।

গোলজারের শিবির সম্পক্ত তথ্য প্রমাণসমূহের মাঝে “গোপনীয়” হিসেবে উল্লেখ করা একটি পত্রে দেখা যায় শিবির ত্যাগের আবেদন করেছিল গোলজার। মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি অনুমোদিত উক্ত পত্রে “সমমনাদের সাথে ঐক্যের” কথা বলা হয়েছে যা অনুপ্রবেশকারী অন্য সদস্যদের বোঝাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া পরবর্তি নির্দেশ পাওয়া মাত্র দলে ফিরে আসার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ছাত্রলীগে যোগদান করানো হয়েছে গোলজারকে।

অনুপ্রবেশ নিয়ে আ’লীগের শীর্ষ নেতারা বহুবার ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও যোগদানের হিড়িক অব্যহত রয়েছে। শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সাবেক ক্যাডাররা দলীয় পদ পাচ্ছে, বঞ্চিত হয়েছে দু:সময়ের নেতাকর্মীরা। দলীয় প্রধান এ নিয়ে বহুবার কথা বললেও কাউকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
সিলেট জকিগঞ্জ কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, আমরা পদ নিয়ে চিন্তিত নই, চিন্তায় আছি নেত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে।



নির্বাচন বার্তা