[…]‘বিচারপতিদের দুর্নীতির বিচার কি হবে না?’ […]‘বিচারপতিদের দুর্নীতির বিচার কি হবে না?’

‘বিচারপতিদের দুর্নীতির বিচার কি হবে না?’

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২২, ২০১৭ , ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

(ইবার্তা ডেস্ক:) সম্প্রতি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের তদন্তে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের ‘বিচার করা যাবে না’ এই মর্মে প্রধান বিচারপতির প্রেরিত পত্রের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি (প্রধান বিচারপতি) এই ধরনের চিঠি লিখতেন কিভাবে? তার মানে কি সুপ্রিম জুর্ডিসিয়াল কাউন্সিল হলে কারও দুর্নীতির বিচার হবে না? সোমবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে ২১ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ পেলে আদালতে যাবে। সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি তদন্ত করা যাবে না বলে চিঠি পাঠান। এটা কোন ধরনের কথা!

প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। তাদের যুদ্ধ করে হারিয়ে দিয়েছে বাঙালিরা।

এ ধরনের তুলনা করার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা ছিল। গ্রেনেড হামলার আলামত নষ্ট করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল জোট সরকার।

ড. কামাল হোসেন কর্তৃক এটর্নি জেনারেলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালতে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ এমন ভাষা ব্যবহার করে কোন ভদ্রলোকের সন্তান এভাবে গালি দিতে পারে তা আমার জানা নাই।

তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের মত মানুষ এটর্নি জেনারেলকে যে জঘন্য ভাষায় গালি দিলেন যে অকথ্য ভাষায় গালি দিলেন তা আমার মুখে আনতে নিজেরই লজ্জা হয়। তাহলে আজকের কোর্টের অবস্থা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন তারা!

ষোড়শ সংশোধনী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি সংসদকে হেয় করেছেন। তিনি সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না।

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি ভুল তথ্য দেয়ার কথা্ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি লিখেছেন কেবিনেট সিদ্ধান্ত নেয় পার্লামেন্ট কতিদিন চলবে। কেবিনেটে পার্লামেন্ট কতদিন চলবে তা নিয়ে কোন আলোচনা হয় না। আসলে পার্লামেন্ট প্র্যাকটিসে সম্পর্কে যার এতটুকু ধারণা আছে সে এই ধরনের কথা লিখতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, রায়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাননি আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি তাদের সে সুগোগ দেননি।

প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। আর রাষ্ট্রপতি যাকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাচ্ছেন। যে ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, সমালোচনার মুখে তার সরে যাওয়া উচিত ছিল।

ফিচার - বিভাগের আরও সংবাদ