[…]আলোচিত সেই জজ মিয়ার জীবন কাটছে অভাব অনটনে […]আলোচিত সেই জজ মিয়ার জীবন কাটছে অভাব অনটনে

আলোচিত সেই জজ মিয়ার জীবন কাটছে অভাব অনটনে

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২২, ২০১৭ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: অপরাধ বার্তা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করা হয়। সারা বিশ্বে আলোড়ন তোলে এই ঘটনা। তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার মায়ের চিকিৎসা ও পরিবারের ভরণ-পোষণ বাবদ প্রতি মাসে নগদ টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে জজ মিয়াকে হামলাকারী হিসেবে দা্য় স্বীকারের জন্য রাজি করানো হয়। মামলায় আসামী ও গ্রেনেড হামলায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, নারায়নগঞ্জের যুবদল নেতা জাকির ও উচ্চ পদস্থ কয়য়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় জজ মিয়ার সাথে হামলার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার অলিখিত চুক্তি হয় এবং তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নোয়াখালীর সেনবাগের বিরকোট গ্রামে।

এদিকে জজ মিয়াকে ধরিয়ে দিতে ঘোষণা করা হয় কোটি টাকা পুরস্কার। অতপর তার গ্রেফতারকে তৎকালীন সময়ে সরকারের সাফল্য ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।। তাঁর কাছ থেকে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ আদায়ের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁকে আসামি করে এই মামলার চার্জশিট দেয়।

প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা না পেয়ে ওয়ান-ইলেভেনের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজসের কীর্তিকলাপ ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা। পরবর্তিতে তদন্তে দেখা যায়, মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চারদলীয় জোট সরকারের নির্দেশে সিআইডি জজ মিয়াকে নিয়ে নাটক সাজানোর চেষ্টা করে। তদন্তে জানা যায়, গ্রামের সহজ-সরল এই যুবক কোনো ধরণের অপরাধের সা্থে জড়িত নয়। সম্পূরক চার্জশিটে রাঘব-বোয়ালদের নাম যুক্ত হওয়ার পর বেঁচে যান জজ মিয়া। আদালতের নির্দেশে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

চাঞ্চল্যকর গ্রেনেড হামলা মামলার আলোচিত চরিত্র জজ মিয়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার ভাড়া বাসায় মা ও বোনকে নিয়ে অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন।

হাওয়া ভবনের নির্দেশে ক্ষমতালোভী কয়েকজন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে এমন অভিযোগ করে জজ মিয়া বলেন, ক্রসফায়ার ও পরিবারের সদস্যদের গুম করার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়। বিনিময়ে গ্রামে থাকা তাঁর পরিবারকে মাসে মাসে কিছু নগদ টাকা দেওয়া হতো। কয়েক মাস দেওয়ার পর তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকার বা প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
জজ মিয়া গণমাধ্যমে বলেন, তার মায়ের কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। মায়ের চিকিৎসা করাতে করাতে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য গ্রামের বসতভিটা পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়া লেগেছে। অর্থের অভাবে নাকি বোনের বিয়ে দিতে পারছেন না।



নির্বাচন বার্তা