[…]প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ! […]প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২৩, ২০১৭ , ১২:২৩ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

(বিশেষ প্রতিবেদন🙂 অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক প্রধান বিচারপতি পদে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নিয়োগ সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এসকে সিনহার কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। কিন্তু তিনি কতটা প্রত্যাশিত আচরণ করেছেন সে প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনে।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর ২ জুন, ২০১৫ এ ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বক্তব্য দানকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনেক সময় বিচারকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। আর সে অজুহাতে আইনজীবীরা তাদের কোর্ট বয়কট করেন। কিন্তু শুধু বয়কট করলেই আমি কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব না। এর জন্য সঠিক তদন্ত করবো।

আপীল বিভাগের বিচারপতি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ব্যাপক অর্থ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্তে তথ্য প্রমাণ পায় যে, বিচারিক পদের অপব্যবহার করে তিনি জমি, ফ্লাট, লন্ডনে বাড়ি, কয়েকটি ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা সহ অপ্রদর্শিত রেখেছেন বিপুল অংকের টাকা। গ্রেফতার থেকে বাঁচতে তিনি আগাম জামিন নেন এবং ২৮ মার্চ, ২০১৭ এ জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারিক কর্মকাণ্ড বন্ধের লিখিত নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

গত ৩১ জুলাই, ২০১৭ বিচারপতি ফজলুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত প্রধান বিচারপতি।

এটা শুধু শেখ হাসিনার প্রশ্ন নয় সচেতন নাগরিক মাত্রই প্রশ্ন তুলবেন, বিচারপতিদের দুর্নীতির কি তদন্ত হবে না?

বিচারপতি হিসেবে শপথ নেয়ার আবশ্যিক শর্ত হচ্ছে ব্যক্তিগত ক্ষোভ, ঈর্শা ও প্রতিহিংসা থেকে বিরত থাকা। আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীকে গণমাধ্যমে কথা না বলতে এবং তাঁর কাছে থাকা মামলার নথিগুলো দ্রুত ফেরত দিতে আদেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি।

আইন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করা প্রসঙ্গে আইন সচিব, আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বলেছেন, প্রধান বিচারপতি আমার ওপর ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষুব্ধ। তিনি তাঁর ক্ষোভ থেকেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ স্থগিতাদেশ করিয়েছেন। সরকার এ ব্যাপারে আইনি পথেই এগুবে।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করার অভিযোগ করে এক জজকে বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা দায়ের করার কথা জানা যায়।

অন্যদিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সাথে বৈঠক, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সহানুভূতিশীল মন্তব্য ইত্যাদি কারণে এসকে সিনহা ক্রমে সাধারণ জনগণের কাছে বিরাগভাজন হতে শুরু করে। সর্বশেষ পাকিস্তানের অনুকরণে ১৯৭৭ সালে প্রচলন করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখতে জাতীয় সংসদে প্রণীত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘোষণা, রায়ের পর্যবেক্ষণে অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক মন্তব্য, ভুল তথ্য উল্লেখ ও রায়ের অসম্পূর্ণতার কারণে জনমনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হতে থাকে। গত ১৯ আগস্ট আদালতে একটি মামলার শুনানীকালে নওয়াজ শরীফকে বহিষ্কারের দৃষ্টান্ত দিয়ে পাকিস্তানের সাথে তুলনা করায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

শপথ ভঙ্গ, সংসদকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছাকে আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন ছাড়াও অসদাচরণের তিনটি অভিযোগ সরকার উত্থাপন করতে চাইছে, সেগুলো হলো:-

১. যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত একজন আসামির ডেথ রেফারেন্স আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়, দণ্ডিত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে ‘বৈঠক’। সরকার মনে করছে, এর মাধ্যমে তিনি বিচারপতিদের যে আচরণবিধি তা লঙ্ঘন করেছেন। ডেথ রেফারেন্স বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসামি পক্ষের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ গুরুতর অসদাচারণ বলে সরকার মনে করছে।

২. একজন আবেদকারীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের বেঞ্চ পরিবর্তন। ওই আবেদনকারী প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন যে, বাড়ি সংক্রান্ত তাঁর মামলার শুনানির জন্য যেন একজন নির্দিষ্ট বিচারপতিকে বেঞ্চে না রাখেন। কোর্টের বাইরে এ ধরনের অভিযোগ পক্ষপাতপূর্ণ এবং তা অসদাচারণের পর্যায়ে পড়ে। ওই আবেদনকারীর অনুরোধে তিনি বেঞ্চ পরিবর্তন করেন।

৩. প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সময়ে আদালতের বাইরে রাজনৈতিক এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান যা একজন বিচারপতির আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকার পক্ষ থেকে এধরনের একাধিক বক্তব্যের অডিও এবং ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর হটলাইনে বিভিন্ন অভিযোগ আমার কথা জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, অভিযোগগুলোর কোয়ালিটি ভালো না। কোয়ালিটি অভিযোগের সংখ্যা খুবই কম। এসব অভিযোগের মধ্যে কমবেশি ১২৬টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর মধ্যে দুদকের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। রয়েছে বিচারধীন মামলায় পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ, পক্ষপাতমূলক ভাবে জামিন দেওয়ার অভিযোগ।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন বিষয়ে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে সেগুলো সবেমাত্র লিপিবদ্ধ হয়েছে। এখন এগুলোর নির্দিষ্টকরণ নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

দেশের প্রধান বিচারপতি বিরুদ্ধে এরকম তদন্ত কতটা আইনসম্মত জানতে চাইলে উক্ত কর্মকর্তা বলেন, একমাত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান দায়মুক্তি দিয়েছে। আর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা আমাদের আইনগত দায়িত্ব। তবে এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যে সব আইনি প্রক্রিয়া তা পুর্বানুমতি নিতে হয়, তা গ্রহণ করেই দুদক এগুবে বলে।

ফিচার - বিভাগের আরও সংবাদ