[…]ভোলায় কোরবানির পশুর মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার […]ভোলায় কোরবানির পশুর মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার

ভোলায় কোরবানির পশুর মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২৪, ২০১৭ , ১২:৫৬ অপরাহ্ন
বিভাগ: সারাদেশ

আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ভোলা জেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি পশুর মজুদ রয়েছে। এবছর কোরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৯২৬টি পশু। মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৭০ গরু, ছাগল ও মহিষ। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহম্মদ আলমগীর এ তথ্য জানান। খবর বাসস।

জেলার মোট ১৩’শ ৭৫টি খামারে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে গরু মোটা-তাজা করা হচ্ছে। এর বাইরেও পারিবারিকভাবে জেলায় প্রচুর গরু-ছাগল প্রতিপালন করা হয়।

জানা গেছে, গত কোরবানিতে জেলায় ৯৩ হাজার ২৫৬টি পশু জবাই করা হয়েছে। এবছর গরু-ছাগলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে সম্ভাব্য প্রায় এক লাখ ধরা হয়েছে। কোন ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে খামারগুলোতে পশু হৃষ্ট-পুষ্ট করা হচ্ছে। অকিাংশ খামারেই কাঁচা সবুজ ঘাস খায়ানো হয়।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, জেলার ৭ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার ২২০টি খামারে ১৬ হাজার ৮৭০টি পশু রয়েছে। দৌলতখানে ১৪৫টি খামারে পালন করা হচ্ছে ১৪ হাজার ৩৮৭টি গরু। বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১২৭টি খামারে ১৩ হাজার ৬৩৪ টি পশু। তজুমুদ্দিনে ৮ হাজার ৫৪৩ টি হৃষ্ট-পুষ্ট পশু পালন হচ্ছে ২৪২ টি খামারে।

একইভাবে লালমোহনে ২১৫টি খামারে ১৪ হাজার ৯৫৫টি গরু আছে। চরফ্যাসনে মোটা-তাজা করন হচ্ছে ৩৪৫টি খামারে ২৯ হাজার ৫১৬টি প্রাণি। মনপুরা উপজেলায় ৪ হাজার ৭১৯টি গরু রয়েছে ৮১টি খামারে। সবুজ ঘাস, দানাদার খাদ্য, ভাত, খরের সাথে ইউরিয়াসহ সুষম খাবার খায়ানো হচ্ছে এসব খামারে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দীনেশ চন্দ্র মজুমদার বাসস’কে জানান, সাধারনত ৫টির বেশি গরু রয়েছে এমন খামারকেই প্রাণি সম্পদ খামার হিসেবে গণ্য করে। গরু হৃষ্ট-পুষ্ট করা হয় ২ ধরনের পদ্ধতিতে। একটি হলো ২-৩টি গরু পালন, অন্যটি খামার পদ্ধতি। প্রথম পদ্ধতিতে গরুর আকর্ষনীয় রং, শিং, চুট, খাবারের অভাবে দুর্বল কিন্তু রোগে আক্রান্ত নয় এসব গরু কিনতে বলা হচ্ছে পালনকারীকে। কারণ এসব গরু একটু যতœ ও উন্নত খাবার পেলে মোটা-তাজা হয়ে উঠে।

তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় পন্থায় মূলত খামারে গরু পালন বুঝায়। এসব গরুকে সবুজ ঘাস, খৈল ভুসির পাশাপাশি ইউরিয়া সার-চিটাগুর-খর মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। খামারি গরুর বাইরেও প্রচুরসংখ্যক গরু-ছাগল রয়েছে জেলায়। অনেকেই কোরবানি উপলক্ষে সেসব পশু বিক্রি করবেন হাটে। জেলায় এই খাতে প্রায় ২৫ ভাগ মানুষ জড়িত রয়েছেন বলে জানান এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহম্মদ আলমগীর আরো বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত গরুর মজুদ থাকায় ইন্ডিয়া থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন হয়না। তবে কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা কিছু বড় গরু ভোলায় আনেন বিক্রির জন্য। এছাড়া এখান থেকে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরু বিক্রি করা হয়।
উল্লেখ্য, জেলায় মোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯০০টি গরু, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩২টি ছাগল, মহিষ ৭৮ হাজার ২৩১টি ও ১৪ হাজার ৬২৭টি ভেড়া পালন করা হচ্ছে। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৬৭টি চর রয়েছে। এসব চরে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর সবুজ ঘাস হয়। তাই যুগ যুগ ধরে হাজার গরু-ছাগল, মহিষ পালন করা হয় চরগুলোতে।