[…]প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সমাবেশ […]প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সমাবেশ

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সমাবেশ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২৪, ২০১৭ , ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: সংবাদ

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো পতাকা মিছিল করেন জোটের নেতাকর্মীরা।

তাঁর বক্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে কালো পতাকা মিছিলটি বের হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বক্তব্য দেন।
বাচ্চু বলেন, “বিগত কয়েকদিন নানা ঘটনা ঘটেছে বিচার বিভাগ নিয়ে, আমরা (সংস্কৃতিকর্মী) চুপ থেকেছি। প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে রায় দিতে পারেন, এর এখতিয়ার তার রয়েছে। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে, সে রায় গ্রহণে অক্ষমতা প্রকাশ করছি।

“বিচার বিভাগ যখন সংসদকে অবমাননা করে তখন আমাদের আক্ষেপ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু থাকে না।”

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে রায়ে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি দলের নেতারা কড়া সমালোচনা করেন, বাক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হন প্রধান বিচারপতি সিনহাও।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আদালতে এক শুনানিতে নওয়াজ শরিফের ক্ষমতা ছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, তারা অনৈক ধৈর্য ধরেছেন।

ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এস কে সিনহা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন দাবি করে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, “শুধু প্রধান বিচারপতি কেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদে থেকে কেউই পাকিস্তানের সঙ্গে এ দেশের তুলনা করতে পারেন না। করলে আমরা তা গ্রহণ করব না।”
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রধান বিচারপতি ও ১১ জন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে না। এটা কেমন দেশ? এটা কি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ না কি বিচারতন্ত্রী বাংলাদেশ? এ দেশের সকল সামরিক অভ্যুত্থানকেও স্বীকৃতি দিয়েছে বিচারপতিরা।”

প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “যারা এদেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমে আঘাত দিয়েছে সেই রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

“সংবিধানে লেখা রয়েছে, আইন সবার জন্য সমান। এ দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী জবাবদিহির অধীনে হলে বিচারপতিরাও জবাবদিহির বাইরে নন।”
জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহম্মদ সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত, কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, কবি ও সাংসদ কাজী রোজী, চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পথনাটক ‘বোধোদয়’ পরিবেশন করে সুবচন নাট্যসংসদ। সাঈদ আহমেদ রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন আহম্মদ গিয়াস।

সংবাদ - বিভাগের আরও সংবাদ



নির্বাচন বার্তা