[…]“প্রধান বিচারপতির মতামতে দেশের জাতির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে ২ কোটি হিন্দু” […]“প্রধান বিচারপতির মতামতে দেশের জাতির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে ২ কোটি হিন্দু”

“প্রধান বিচারপতির মতামতে দেশের জাতির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে ২ কোটি হিন্দু”

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ২৭, ২০১৭ , ৯:০৯ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: জাতীয় সংবাদ

“ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে দেওয়া প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার মতামতে দেশের ২ কোটি হিন্দু জাতির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। হিন্দুরা বেঈমান বলে প্রতীয়মান হয়েছে।” হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের এ বক্তব্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, উনাদের নিয়ে বাকবিতণ্ডাতে যেতে চাই না। উনাদের কল্যাণের জন্য যা ভাল মনে করেছেন তা উনারা বলেছেন।

গত শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি গৌর গোপাল সাহা বলেন, হিন্দুদের বেঈমান, স্বার্থপর ভাবা হচ্ছে। আসলে তিনি (প্রধান বিচারপতি) হিন্দুদের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করেছেন। এর সঙ্গে অন্যদের সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, দুই কোটি হিন্দু জনগোষ্ঠী আজ অকারণে ব্যক্তিবিশেষের অবিমৃশ্যকারিতার জন্য জাতির কাঠগড়ায় অভিযুক্ত। অথচ এ বিভ্রান্তির জন্য তাদের দায়-দায়িত্ব নেই। এ দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠী চিরদিনই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় বিশ্বাসী এবং বাঙালি জাতিসত্তার প্রতি শ্রদ্ধাবান। ব্যক্তিবিশেষের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব তারা কোনোভাবেই বহন করেন না।

আরও বলা হয়, প্রধান বিচারপতির অপ্রাসঙ্গিক, বিচার বহির্ভূত কিছু অবাঞ্ছিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশে বর্তমানে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মালিক এ দেশের জনগণ এবং বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র জনগণের স্বার্থে এবং জনগণ কর্তৃক রচিত ও গৃহীত। এ সংবিধান নিয়ে ব্যক্তিবিশেষের উচ্চাভিলাষ ও দুরভিসন্ধি কোনোটাই এ দেশের জনগণ গ্রহণ করে না।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ হয়েও শেখ হাসিনার দাক্ষিণ্যে বিশেষ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যে সুযোগ পেয়েছিলেন, তিনি তার সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।

বিচারপতি গৌর গোপাল সাহা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন- সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রচারের পর তিনি প্রতিবাদ না করায় তা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি স্বপন কুমার রায়, চন্দন রায়, অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল প্রসাদ কানু, নির্মল পাল, শ্যামল ভট্টাচার্য ও সুব্রত পাল প্রমুখ।