[…]বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মানুষও যেন কষ্ট না পায় : প্রধানমন্ত্রী […]বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মানুষও যেন কষ্ট না পায় : প্রধানমন্ত্রী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মানুষও যেন কষ্ট না পায় : প্রধানমন্ত্রী

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ৩১, ২০১৭ , ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বন্যা হয়েছে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি একটা মানুষও যেন কষ্ট না পায়। ফসল নষ্ট হয়েছে। আমরা বিদেশ থেকে পয়সা দিয়ে আমরা খাদ্যশস্য কিনেছি যেন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে ঘরে আমরা খাদ্য পৌঁছে দিতে পারি।’ গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গৃহহারা তাদের ঘরবাড়ি করে দেব। রোগের প্রাদুর্ভাব যেন না দেখা দেয় তার জন্য আগাম আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, ওষুধপত্র কোন কিছুর যেন অভাব না থাকে। এখন বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যেন পুনরায় চাষবাস করতে পারে তারজন্য যা যা করার সব ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছি বলেই জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় আমরা কার্যকর করতে পেরেছি। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, মানি লন্ডারিং মামলার বিচার করেছি, শাস্তি পেয়েছে তার ছেলে (খালেদা জিয়ার)।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলেই আজকে দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তাইতো সারাবিশ্বে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবেশী সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতিটি সদস্যা আমরা সমাধান করেছি। আজকে বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলের কাছে বিস্ময়। এটা আমরা করতে পেরেছি একটাই কারণে যে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে তাঁর নীতি অনুসরণ করে তার প্রদর্শিত পথে এই দেশ পরিচালনা করছি। যখনই একটু ভালো কাজ করি আমার শুধু মনে হয় নিশ্চই আমার আব্বার আত্মাটা শান্তি পাবে। যে তাঁর দেশের মানুষ ভালো আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু তার আদর্শ এবং নীতি নিয়েই আমরা এই দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চাই। বাংলাদেশকে হবে বিশ্বের উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন- ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইনশাল্লাহ খাদ্যের অভাব এখন নেই কিন্তু বাংলাদেশ একদিন ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্তভাবে গড়ে উঠবে। এই শোক দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। যে এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ করবো। তবেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নানারকম টালবাহানা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘এখন আবার নির্বাচন যতই সামনে ঘনিয়ে আসছে তাদের (বিএনপি’র) আবারো নানারকম অযুহাত।’

মানুষ হত্যার রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই (বিএনপি’র) তাদের রাজনীতি। এটাই তাদের কাজ। তারা মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। কিন্তু মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। মানুষের ওপর অত্যাচার করতে পারে। মানুষকে নির্মমভাবে তারা খুন করে যায় নির্বিচারে। যখন জনগণ প্রতিরোধ করেছে তখন খালেদা জিয়া ঘরে ফিরে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে ৫৮২টি স্কুল তারা পুড়িয়েছে। লঞ্চে আগুন, বাসে আগুন, পেট্রোল বোমা মারা- প্রিসাইডিং অফিসারকে হত্যা করা, পুলিশ হত্যা করা, বিজিবি সদস্য হত্যা করা- কি না করেছে এই বিএনপি’র নেত্রী। খালেদা জিয়ার নির্বাচনে না আসাকে রাজনৈতিক ভুল আখ্যায়িত করে সেই ভুলের মাশুল সাধারণ জনগণ কেন দেবে সেই প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নাই। এটা তার সিদ্ধান্ত। আমিতো তাকে নির্বাচনে আনার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। তিনি বলেন, ‘আমিতো তাকে ফোন করেছিলাম। আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম আসেন সংসদে, যে মন্ত্রণালয় চাবেন সেই মন্ত্রণালয়ই দেব। কিন্তু নির্বাচনটা হোক। তিনি আসলেন না। নির্বাচন করলেন না। তারপর নির্বাচন ঠেকানোর নামে এই জা¡লাও-পোড়াও’।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণ তখন তাদের প্রতিরোধ করেছে। এরপর ২০১৫ সাল, সরকার উৎখাতের জন্য তার যে আন্দোলন সে আন্দোলন কিসের আন্দোলন, এটাতো জঙ্গিবাদি আন্দোলন। সন্ত্রাসী আন্দোলন। মানুষকে পুড়িয়ে মারার আন্দোলন। এই কয়েক বছরে তারা ৫শ’র উপরে মানুষকে হত্যা করেছে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়েছে। এখনও সেই পোড়া মানুষগুলো ধুঁকে ধুঁকে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। অনেকের জীবন, জীবিকার পথ বদ্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি তাঁদের সাধ্যমত সাহায্য করে যাচ্ছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার উল্লেখ করে বলেন, আমরা দেখেছি ৬ বছরের রাজুফা থেকে শুরু করে মেয়েদের ওপর কি পাশবিক অত্যাচার তারা করেছে। ঠিক যেন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মত। তারা যেভাবে ধর্ষণ করেছিল ঠিক একইভাবে বিএনপি-জামায়াত ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে। তারপর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘর পোড়ানো থেকে শুরু করে, তাদের খুন করা, ব্যবসা-বাণিজ্য নষ্ট করে দেওয়া, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা, মুরগীর খামারে আক্রমণ, গোয়ালের গরু কেড়ে নেওয়া- সব ঘটনাগুলি তারা একে একে ঘটিয়েছে।

১৫ আগস্টের খুনীদের মূল লক্ষ্য ছিল যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার থেকে ভিন্ন পথে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পর তারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই বাংলাদেশটাকে নিয়ে এইভাবে ছিনিমিনি খেলেছে। কিন্তু দেশের মানুষের কোন উন্নতি তারা করে নাই। তার কারণ এরা স্বাধীনতাইতো বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই বিশ্বাস করে না। এদেশের মানুষ যারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে তারাই তাদের কাছে (খুনী চক্রের কাছে) সব থেকে অবহেলিত। আমাদের কয়েকটি জেনারেশনকে স্বাধীনতার আসল ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত রেখেছে। বিকৃত ইতিহাস তারা শিখিয়েছে। দেশটাকে একবারে ধ্বংসের প্রান্তে তারা নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ওপর অস্ত্র পাচার, অর্থ পাচার, এতিমের টাকা খাওয়া- কি কাজ না তারা করেছে। বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছিল অস্ত্র পাচারকাররিদের একটি রুট। সেই ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, যার রায় হয়েছে। আর মানি লন্ডারিং কেসে খালেদা জিয়ার ছেলের ৭ বছরের শাস্তি হয়েছে, ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। আর আরেক ছেলের পাচার করা টাকাতো আমরা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরতও এনেছি। আর তিনিতো (খালেদা জিয়া) এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কালো টাকা সাদা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন- কোথা থেকে আসলো এই কালো টাকা। কিভাবে পেল? তার কোন হদিস নেই। একদিকে রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করা অপরদিকে জনগণের টাকা-পয়সা, এতিমের টাকা-পয়সা লুট করা। খুনীদেরকে মদদ দেওয়া, খুনীদেরকে পুরস্কৃত করা। এটাইতো বাংলাদেশে হয়েছে। তারপর গ্রেনেড হামলা সেই ২১ আগস্ট।

২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চলাকালীন তারা সংসদ সদস্য ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সংসদের অনেক সদস্য তখন আহত। আমরা যখন সংসদে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে চাইলাম- তারা আমাদের সংসদে আলোচনা করতে দেয়নি। বরং ব্যাঙ্গ করে বলেছে ‘ওনাকে আবার কে মারতে যাবে।’

সরকার প্রধান বলেন, তিনি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিজেই গ্রেনেড বয়ে নিয়ে গিয়ে ঐ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করেন বলে তৎকালীন বিএনপি’র এমপিরা সংসদেও বলেছে। এ প্রসঙ্গে বলেন, তারা যে কত জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা বলতে পারে সেটাই দেখা গেছে। পাশাপাশি তাদের আসল চরিত্রতো ফুটে উঠেছে ২০১৩ সালে। যখন বায়তুল মোকাররমে সরকার পতনের আন্দোলনের নামে অবস্থান নিয়ে শত শত কোরআন শরিফ তারা পুড়িয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতিয় মসজিদে পর্যন্ত তারা আগুন দিয়েছে। মসজিদে কোরআন শরিফ পড়া অবস্থায় আমাদের কর্মী বগুড়ার আজম খানকে তারা হত্যা করেছে । এরকম বহুকর্ম তারা ঘটিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের জন্য জিয়াউর রহমানকে পুনরায় অভিযুক্ত করে বলেন, এই হত্যাকান্ড যারা চালিয়েছে তাদের বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। কারণ ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের পর বেইমান মোনাফেক মোস্তাক কিছুদিনের জন্য রাষ্ট্রপতি হয়। মোস্তাকের পতন হয় এবং ৩ মাসও সে ক্ষমতায় থাকতে পরেনি। কারণ বেইমানরা থাকতে পারে না। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিতকারি মীর জাফরও তিন মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন।

মোস্তাক ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন. ‘এটা খুব স্পষ্ট যে, মোস্তাক যে ষড়যন্ত্র করেছিল, তার ডান হাত ছিল জেনারেল জিয়া। কর্নেল ফারুক তার ইন্টারভিউতে (বিদেশি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে) স্পষ্ট সে কথা বলেছে। জিয়াকে যখন সেনাপতি করে তখন জিয়া বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি থেকে হটিয়ে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করে।

সে সময়কার দেশের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পর থেকে দেশে প্রতিরাতে কারফিউ থাকতো। বাংলাদেশের কোন মানুষ স্বাধীনভাবে চলতে পারেনি। রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ। কারোই স্বাধীনভাবে চলার কোন ক্ষমতা ছিল না। আর এই আত্মস্বীকৃত খুনীরা গর্বভরে বলতো কে তাদের বিচার করবে? এই খুনীদেরকেই বিচারের হাত থেকে রেহাই দেবার জন্য ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জিয়াউর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘পৃথিবীর কোন দেশে আছে যে খুনীদের বিচার হবে না সেজন্য আইন করা হয়। আমরা কি এদেশের নাগরিক না, যারা আপনজন হারিয়েছি, বাবা হারিয়েছি, ভাই হারিয়েছি, মা হারিয়েছি। আমাদের কি বিচার পাবার কোন অধিকার ছিল না। বিচার চাওয়ার অধিকারই আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল।’ শেখ হাসিনা বলেন, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে আমরা খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করি। এটা আল্লাহর রহমতে আমরা করতে পেরেছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই খুনীদেরকেই বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়ে জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছিল। বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে চাকরী পাওয়া এসব খুনীদের যোগ্যতাটা হচ্ছে তারা অনেক খুন করে এসেছে। তারা দেশের রাষ্ট্রপতিকে, জাতির পিতাকে তারা হত্যা করেছে। শিশু হত্যা করেছে। নিরাপরাধ নারী হত্যা করেছে। এরাই জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিতে সবচেয়ে যোগ্য ছিল যাদের সে চাকরী দিয়ে পুরস্কৃত করেছে।

শেখ হাসিনা তৎকালীন বুদ্ধিজীবীদের একাংশের সমালোচনা করে বলেন, আমি জানি না তখন বাংলাদেশে যারা বিবেকবান ছিলেন, যারা বুদ্ধিজীবী ছিলেন তাদের হাতেগোনা কয়েকজন হয়তো এর প্রতিবাদ করেছেন কিন্তু কোথায়? তেমনভাবে কেউতো বলেনি যে, এই খুনীদের কেন এই দূতাবাসে চাকরী দেওয়া হলো?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহুদেশ এসব খুনীদের গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, তিনি পোল্যান্ডের কথা জানেন। যখন একজন আত্মস্বীকৃত খুনীকে ঐখানে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল তখন পোল্যান্ড তাতে নিষেধ করে দিয়েছিল- যে মুজিবকে হত্যা করেছে তাকে আমরা আমাদের দেশে নিতে পারি না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বন্ধুদের যে বিবেক ছিল সেই বিবেক আমাদের দেশের কয়জন দেখিয়েছিল। এখনতো আমরা দেখি কত রিট হয় সুয়োমোটো অর্ডার হয়, কিন্তু এতবড়ো অন্যায় যে হলো তখন কি উচ্চআদালতের বিবেকও সেখানে বন্দি ছিল? বা দেশে বড় বড় আইনজীবী থেকে শুরু করে এত বিবেকবানরা কোথায় ছিলেন? এখন একটু ১৯ থেকে ২০ হতে পারে না, এত কথা বলেন। কই তারাতো এতদিন সেভাবে কোন প্রতিবাদ করেন নি? হ্যাঁ সবাই যে করেনি তা নয়, হাতেগোনা কয়েকজন করেছিলেন। যারা করেছেন তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের তো বন্দি করেই রাখা হয়েছিল। ১৯টি ক্যু হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত। আরো বক্তৃতা করেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং মুহম্মদ ফারুক খান। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তৃতা করেন দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।



নির্বাচন বার্তা