[…]ট্রাম্পের নতুন পাকিস্তান নীতির বাস্তবায়ন শুরু!

ট্রাম্পের নতুন পাকিস্তান নীতির বাস্তবায়ন শুরু!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:জানুয়ারী ১০, ২০১৮ , ২:১৯ অপরাহ্ন
বিভাগ: আন্তর্জাতিক সংবাদ

বিগত মার্কিন প্রশাসনগুলো সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের যৌথ সহযোগিতার নামে পাকিস্তানকে হাজার কোটি ডলার দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবার নতুন নীতি আরোপ করেছে। তিনি নিয়ন্ত্রণ আরোপে এবার অর্থ সহায়তা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে দক্ষিণ এশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, এটাই ট্রাম্পের নতুন পাকিস্তান নীতি। দ্য ডন, ইকোনোমিক টাইমস।

এদিকে, পাকিস্তানের কাছে থেকে সময়মতো সুযোগ-সুবিধা নেয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ভুলে গেছে বলে অভিযোগ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমস। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমটির একটি সম্পাদকীয়তে এমন দাবি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে নিরাপদ স্বর্গ গড়ে তুলতে সহায়তা করে আসছে। আর সন্ত্রাসীরা তা ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা কঠোর করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানভিত্তিক পত্রিকা দ্য ‘ডন’ দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আফগান নীতির মূল লক্ষ্য সামরিকভাবে তালেবানকে পরাজিত করা এবং কাবুলের শর্ত মোতাবেক তাদের আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে বাধ্য করা। এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে ‘সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমগুলো’ ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে বর্তমান প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মন্তব্য, এটাই ট্রাম্পের নতুন নীতি। সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলার পর ৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে সাহায্য বন্ধের ঘোষণা আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস জানান, অর্থ সহায়তা বন্ধ হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজাই রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জানজুয়া গত শনিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতির কারণেই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলতে চায় পাকিস্তান।

২০০৯ সালে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে একটি সহায়তা প্যাকেজ স্বাক্ষর করে পাকিস্তান। কেরি-লুগার বিল নামে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে পাকিস্তানকে পরবর্তী পাঁচ বছরে ৭৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ‘ইকোনোমিক টাইমস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, ‘আগের প্রশাসনগুলো ‘কেরি-লুগার-বারম্যান’ বিলের আওতায় পাকিস্তানকে হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন ভিন্ন চিন্তা করছে। এ প্রশাসন বিশ্বাস করে এখন ভিন্ন কিছু চেষ্টা করার সময়। আফগানিস্তানে উন্নতি করতে হলে, সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমগুলো এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করার প্রতিশ্রুতি ৃপ্রেসিডেন্ট পরিষ্কার করেছেন।



নির্বাচন বার্তা