[…]বিএনপির বৈঠক ‘ভাইয়া গ্রুপে’র হাত থেকে বাঁচানোর আকুতি

বিএনপির বৈঠক ‘ভাইয়া গ্রুপে’র হাত থেকে বাঁচানোর আকুতি

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:জুলাই ২৪, ২০১৮ , ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

হাওয়া ভবনের মত এখনো “ভাইয়া গ্রুপ” নামের একটি গ্রুপ দলে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে বিএনপিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। গতকাল বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে বিএনপির একাধিক নেতা সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে বলেন, দল পুনর্গঠনের নামে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদ দিয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই কাজটা করছেন ভাইয়া গ্রুপ নামের তথাকথিত গ্রুপটি। এরা বিএনপিকে শেষ করবে, তারেক রহমানকেও শেষ করবে। এদের হাত থেকে দলকে বাঁচান। জামায়াতে ইসলামীকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে বলেও নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দল ও অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সন্ত্রাসী, বিতর্কিত, অছাত্র ও সরকারের এজেন্ট হিসেবে পরিচিতদের পদায়ন করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় এক সম্পাদক বলেন, “আজ আমরা কি শহীদ জিয়ার আদর্শে রয়েছি কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের তাবেদারি করা হচ্ছে বলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। দল কি করছে বা কি করবে তার কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে দল আন্তরিক নয় বলেও অভিযোগ করছে তৃণমূল নেতারা। জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে প্রায় সারাদেশে মতবিভেদ চলছে। এমতাবস্থায় নেতাকর্মীরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা চায়।”

বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে তারেক রহমানের অনুসারী এই ভাইয়া গ্রুপ যা ইচ্ছে তা-ই করছে। এর আগেও একইভাবে হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক তারেক রহমানকে নিয়ে একটি ভাইয়া গ্রুপ মাঠে নেমেছিল। তাদের কয়েকজন এখন একই কাজ করেছে। আবার নতুন গ্রুপটি দলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে। কমিটি গঠন নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করা প্রসঙ্গ টেনে একাধিক নেতা উল্লিখিত বক্তব্য দেন। এই বক্তব্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে শান্ত হয়।

এ সময় নেতারা বলেন, “দেশের মানুষ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। তাই দলকে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে এখন কাজ করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের জন্য রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অনেকেই খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা করছেন এবং সরকারের সঙ্গে আপোষ করতে চাইছে।”
তাদের মাথা থেকে এই চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে আহ্বান জানান।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয়। যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকের শুরুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিনিয়র নেতারা তাদের কথা শুনতে চান। তাদের বক্তব্য ও পরামর্শ দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে সম্পাদক পর্যায়ের নেতারা বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচনে তারা যাবেন না। তবে এ বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের আরও পরিষ্কার করে বলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে না পারলে বিএনপিও সেই নির্বাচনে যাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্বাচন হবে না বলেও জোরালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য বলেছেন নেতারা।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের দাবি তুলে আগামী আন্দোলন ও নির্বাচনকে টার্গেট করে দলকে পুনর্গঠনের বিষয়ে অনেক নেতা সমালোচনা করে বলেছেন, “বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের সময় জেলার দায়িত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা কিংবা পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এটা আগামী আন্দোলনে প্রভাব ফেলবে।”
আগামীতে যেসব জেলায় অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন করা হবে, সেসব এলাকার নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে যেন কমিটি দেওয়া হয়, তার জন্য দাবি করেছেন অনেক নেতা।
কয়েকজন নেতা দলের সিনিয়র নেতাদের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা জাতীয় ঐক্য নিয়ে কথা বলছেন; কিন্তু সেই ঐক্য কতদূর হয়েছে তা খোলাসা করতে হবে। কারণ নির্বাচনের বেশি সময় নেই। তাদের বিষয়ে এখনই নেতাকর্মীদের জানাতে হবে।

বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মাহবুবে রহমান শামীম, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ অংশ নেন।

বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন, জাতীয় নির্বাচন, সাংগঠনিক অবস্থা, আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নিজেদের কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ফিচার - বিভাগের আরও সংবাদ



নির্বাচন বার্তা