[…]এডিবি থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

এডিবি থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অক্টোবর ৩, ২০১৮ , ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: এডিটরস' পিক
  • নেয়া হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ
  • পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের আশ্বাস

আগামী পাঁচ বছরে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবির কাছ থেকে সাড়ে আট বিলিয়ন ডলার বা ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কর্মসংস্থান বাড়াতে অবকাঠামো খাতে এই অর্থ ব্যয় করবে সরকার। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো বড় প্রকল্পগুলোতে এডিবির অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্পতে অর্থায়ন করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে এবার এই সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া এবং জীবনমান উন্নয়নে দেশে ব্যাপক ভিত্তিতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কারণে বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকারী বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। গত কয়েক বছরে সরকারী বিনিয়োগে এডিবি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া বেসরকারী খাতের বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে এডিবির বিনিয়োগ রয়েছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত দেশের কাতারে সামিল হওয়া, মাথাপিছু আয় বাড়া, ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা অর্জন এবং এমডিজি অর্জনে সফলতা আসায় এডিবি বাংলাদেশে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে দেশের অবকাঠামো খাত নিয়ে সংস্থাটির আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এডিবির বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশে এডিবির কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে এডিবির কাছ থেকে সাড়ে আট বিলিয়ন ডলার অর্থ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঋণ ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ায় খুশি সংস্থাটি। তবে সরকারী খাতের ন্যায় বেসরকারী খাত ঋণ ব্যবহারে পারদর্শিতার পরিচয় দিতে পারছে না। এ কারণে দেশের বেসরকারী খাতেও ঋণ ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে সংস্থাটির যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারী খাতে বাধ্যতামূলক ২৫ শতাংশ ঋণ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু দেশে তা হচ্ছে না। এই বাস্তবতায় বেসরকারী খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানো এবং সেই ঋণের সঠিক ব্যবহারে এডিবির স্থানীয় কার্যালয়ের অবকাঠামো বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ জনবল নিয়োগ করে বেসরকারী খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে তা কিভাবে সমাধান করা যায় সেই প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, রূপকল্প-২১ এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হলে স্বল্পসুদের এই ঋণ আমাদের প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় এই অর্থ অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

জানা গেছে, নিজস্ব অর্থায়নে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে প্রথম পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় এবার এডিবি দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এডিবি বলছে, প্রথম পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করলে নির্মাণ খরচ অনেক কমে আসবে। এখন যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে সেইসব যন্ত্রপাতি এই সেতুতেও ব্যবহার করা যাবে। এ কারণে দেরি না করে শীঘ্রই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা হলে তাতে অর্থায়ন করবে এডিবি।

এদিকে, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারী উদ্যোগের সঙ্গে বেসরকারী বিনিয়োগ অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যে এডিবি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সরকারী খাতে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি বেসরকারী খাতেও ঋণ বিতরণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারী খাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এসব খাতে ঋণ দেয়ার মাত্রা আরও বাড়ছে। সরকারী খাতে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ওপর জোর দেয় এডিবি। বেসরকারী খাতের ক্ষেত্রে কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় জোর দেয়া হয় সবচেয়ে বেশি।

এডিবির মতে, এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে বেসরকারী বা ব্যক্তিগত খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের জোগান দিতে পারে বেসরকারী খাত। কর্মসংস্থান অথবা আত্মকর্মসংস্থানই পারে দারিদ্র্য দূর করতে। এ কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাসহ বেসরকারী উদ্যোক্তাদের ঋণসহায়তা দিচ্ছে এডিবি। এডিবি বেসরকারী বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, সরকারী খাতের পাশাপাশি বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারাও এডিবি থেকে ঋণ নিচ্ছে। সামিট গ্রুপ বিদ্যুত উৎপাদনে বড় অঙ্কের ঋণ পেয়েছে। বিদ্যুত, জ্বালানি খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারী খাতের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও সংস্থাটি থেকে ঋণ পেতে যাচ্ছে। তবে বেসরকারী খাতেও ঋণ প্রবাহ বাড়াতে হলে সরকারী নীতি সহায়তার প্রয়োজন। তিনি বলেন, বেসরকারী খাতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। প্রকল্প নির্বাচন ও কোম্পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ত্রুটি থাকলে এডিবি ঋণ দেয় না। এক্ষেত্রে বেসরকারী খাতকে সহযোগিতা করতে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তৈরি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ভৌত অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ট্রান্সপোর্ট, বাইপাস বা সার্কুলার রোড নির্মাণ, আইসিটি ও তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিকমিউনিকেশন, বন্দর উন্নয়ন এবং সামাজিক অবকাঠামোর আওতায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো কর্মসূচী বাস্তবায়নে এডিবি ঋণ দিচ্ছে। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইডিসিএল) শুরু থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে।

জানা গেছে, আগামী বছর বাংলাদেশকে দেয়া ঋণ সহায়তার অংশ হিসেবে এডিবি দুই বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড় করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবির অর্থ ছাড়ের গতি বেশ ভাল। আগামী বছর এ গতি তারা আরও বাড়াবে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তারা এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড় করেছে। চলতি বছর আশা করছি, সেটা দুই বিলিয়নে চলে যাবে। এছাড়া সংস্থাটি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারকে ২০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ কোটি ডলার ছাড় করেছে।

জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য (২০১৬-২০২০ সাল) এডিবি যে ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করেছে সেখানে বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই ঋণ, যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই ঋণের ২৫ ভাগ যাবে বেসরকারী খাতে। এডিবিতে ইমেজ এতটাই ভাল যে, সংস্থাটি এখন বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ পরিমাণ সহায়তা দিতে চায়। এর আগে সংস্থাটি তাদের কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি ২০১১-২০১৫-তে ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছিল। সেখানে ৩ বিলিয়ন বাড়িয়ে ৮ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে।



নির্বাচন বার্তা