বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় গ্রিডে ত্রুটিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়, তদন্ত কমিটি গঠন

২৭ অক্টোবর দুপুরে মেঘনাঘাট-হরিপুর লাইনের ত্রুটিতে উৎপাদন এক ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট কমে যায়; কারণ খুঁজতে দুটি কমিটি কাজ করছে।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে ঢাকা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ বহুতল ভবনের সারি।
প্রতীকী ছবি: মেঘলা আকাশের নিচে ঢাকা শহরের একাংশ। · ছবি: Tarunno / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাতীয় গ্রিডের ত্রুটির কারণে ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার পূর্বাংশ ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে মেঘনাঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছে, এতে চট্টগ্রামেও বেশ কয়েকটি লাইন ট্রিপ করে।

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকার গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিল এবং নারায়ণগঞ্জের ভুলতা, হরিপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ না থাকার কথা বলা হয়েছে। ডেইলি স্টার লিখেছে, সচিবালয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া গেছে।

উৎপাদনে ধস ও পুনরুদ্ধার

পিজিসিবির তথ্য উদ্ধৃত করে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দুপুর ১২টায় জাতীয় উৎপাদন ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট, যা ১টায় নেমে আসে ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে; অর্থাৎ এক ঘণ্টায় কমে ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ ও কয়লাভিত্তিক উৎপাদন প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে যায়। বিডিনিউজ২৪ লিখেছে, বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিজিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সঞ্চালন লাইনের ব্যর্থতায় মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

পিজিসিবি জানায়, বেলা আড়াইটার মধ্যে সঞ্চালন নেটওয়ার্কের সব সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়; পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে চালু করা হয়। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

ঘটনার কারণ খুঁজতে পিজিসিবি মুখ্য প্রকৌশলীর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে, যাদের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগও অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করেছে; এর প্রতিবেদনের সময়সীমা দুই সপ্তাহ।

ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ত্রুটির কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি; বিভাগ যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রসঙ্গ হিসেবে প্রতিবেদনে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবরের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড বিপর্যয় এবং ২০১৪ সালের ১ নভেম্বরের প্রায় ১২ ঘণ্টার জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কথাও আছে।

তথ্যসূত্র