আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশাল জেলাতেও এর প্রভাব আছে। ইউএনবির বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে, ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ক্ষণস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
রাজশাহীর চিত্র
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর রাজশাহীতে তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সময় অক্টোবরের শেষ দিকে এমন তাপমাত্রা বাড়তে পারে; তবে এ ধরনের উষ্ণ সময় অনিয়মিত ও মাঝেমধ্যে ঘটে।
একই প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে ‘ক্লিনার ওয়াটার’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত হয়েছে। এতে দেখা যায়, রাজশাহী জেলায় বর্ষা মৌসুমের গড় বৃষ্টি ১৯৭৮–১৯৯০ সালের ১ হাজার ৪০৬ মিলিমিটার থেকে কমে ২০১১–২০২৪ সালে ৯২৫ মিলিমিটারে নেমেছে, অর্থাৎ প্রায় ৩৪ শতাংশ কমেছে। ভূগর্ভস্থ পানির গড় গভীরতা ১৯৯০ সালের ১১.৬৬ মিটার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১৫.৪৪ মিটারে পৌঁছেছে।
অধ্যাপক জাহান বলেন, আগে জুন-জুলাইয়ে যে বৃষ্টি হতো, তা এখন ক্রমেই আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আসছে; তাঁর ভাষায় পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত অনিয়মিত’ হয়ে উঠেছে। বিএমডির তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০২৪ সালে ছিল ৪৩ ডিগ্রি, ২০২৫ সালে ৪০.৮ ডিগ্রি এবং ২০২৬ সালে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী বিভাগে হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোকে মৃত্যু ২০২৪ সালে ৬৭ এবং ২০২৫ সালে ৩১।

