প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ ও জাপান ছয়টি সরকারি দলিল সই করেছে এবং দুটি ইয়েন-ঋণ প্রকল্পে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। বুধবার টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। ইউএনবির বরাতে ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড একই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ছয়টি দলিলের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক, একটি অনুদান চুক্তি ও একটি অভিপ্রায়পত্র। অনুদান চুক্তির আওতায় উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি টহল জাহাজের জন্য জাপান সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন (প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার) দেবে। স্মারকগুলো অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ, কৃষি, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ নিয়ে; জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার অভিপ্রায়পত্রে সই করেছে দুই দেশের পরিবেশ-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়। এর বাইরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনে (জেট্রো) বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
ঋণ ও শীর্ষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত
ঋণ-প্রতিশ্রুতির মধ্যে আছে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ইয়েন (প্রায় ১০ কোটি ৮ লাখ ডলার) এবং উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩ হাজার ৬৮ কোটি ইয়েন (প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার)। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে দুই ঋণ মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৬৫৬ কোটি ইয়েনের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে একমত হন। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬৩৫ কোটি ডলার) পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রক্ষেপণকে নেতারা স্বাগত জানান; এতে দুই লাখ কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ নামে উন্নীত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করা।
ডেইলি স্টার আরও লিখেছে, জরুরি অর্থনৈতিক সহনশীলতা ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ সহায়তা ঋণের আওতায় জাপান ৫ হাজার কোটি ইয়েন (প্রায় ৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) দেবে। দুই নেতা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং ঢাকা মেট্রোরেলের নতুন লাইনের নির্মাণ দ্রুত শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়ে তা দ্রুত কার্যকরের অঙ্গীকারও তাঁরা করেছেন।
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরসূচিতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামও আছে, যেখানে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা ছিল। সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শন করে ঢাকায় ফিরবেন।
