পুঁজিবাজারে নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদনের দীর্ঘ বিরতি ভাঙল। বিদ্যুৎ উৎপাদক কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি ২৮ অক্টোবর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা তুলতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন জমা দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ইন্ডিকেটিভ দর ২৪২ টাকা।
নতুন বিধিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ইন্ডিকেটিভ দরের ২৫ শতাংশ ওপরে বা নিচে বিড করতে পারবেন; সেই বিডের ভিত্তিতেই কাট-অফ মূল্য ঠিক হবে। টিবিএস জানিয়েছে, এর আগে সর্বশেষ বুক বিল্ডিংয়ে টেকনো ড্রাগস ২০২৪ সালের শুরুতে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল, আর ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর কোনো আইপিও আবেদন জমা পড়েনি। প্রতিবেদনে এই বিরতির সঙ্গে মূলধন সংগ্রহ-সংক্রান্ত বিধি পর্যালোচনা ও সংশোধনের যোগসূত্র টানা হয়েছে।
প্রসপেক্টাস অনুযায়ী ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ২৩০ কোটি যাবে কক্সবাজারের উত্তরাংশে ১০০ মেগাওয়াট (এসি) গ্রিড-সংযুক্ত সোলার প্রকল্পে এবং ১০২ কোটি টাকা বাগেরহাটের মোংলার আরেকটি ১০০ মেগাওয়াট প্রকল্পে ইকুইটি হিসেবে। ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণ আংশিক পরিশোধে, আর ৮ কোটি টাকা আইপিওর খরচে। ১৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত রোডশো নিয়ে ডেইলি স্টার ও টিবিএস জানিয়েছে, দুটি প্রকল্পের জন্যই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে ২০ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি হয়েছে।
টিবিএসের তথ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানির রাজস্ব ছিল ১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ৪৭৭ কোটি টাকা; আগের বছর এ দুটি ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৭৩ কোটি ও ৪৮৬ দশমিক ৪২ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুন শেষে মোট সম্পদ ৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বর্তমানে কোম্পানির চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, বগুড়া, রংপুর ও চট্টগ্রামে, যার সম্মিলিত সক্ষমতা ৩৯৩ মেগাওয়াট। মুনাফা ধরে রেখে কোম্পানি লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি বলেও জানিয়েছে টিবিএস।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিক থেকেও আইপিও-সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের এক সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ করতে আইপিও বিধিতে বড় পরিবর্তন আনা হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো প্রকল্পের পুঞ্জীভূত লোকসান বিবেচনা, নিরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং আইপিওর অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সংশোধন, বর্তমানে যা ৩০ শতাংশ, অন্তর্ভুক্ত। তিনি স্পষ্ট করেন, লোকসানি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে দেওয়া হবে না।
কনফিডেন্স গ্রুপ ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০০ মেগাওয়াট সোলার সক্ষমতায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে। আবেদনের ওপর বিএসইসির সিদ্ধান্ত বা শেয়ার বিক্রির সময়সূচির কোনো উল্লেখ এসব প্রতিবেদনে নেই।
