বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আইফোন ডুওর ভেতরের পর্দায় ফাটলের অভিযোগ, ত্রুটিপূর্ণ ফোন বদলে দেবে অ্যাপল

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন বিক্রি শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই কব্জার কাছে পর্দা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে; কোম্পানি বলছে সমস্যা ‘অল্প সংখ্যক’ ইউনিটে।

রঙিন পর্দাসহ সাজানো তিনটি ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন, দুটি ফ্লিপ ধরনের ও একটি ফোল্ড ধরনের
প্রতীকী ছবি: ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন। ছবির ডিভাইসগুলো স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ও জেড ফ্লিপ, আইফোন ডুও নয়। · ছবি: Ka Kit Pang / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই কিছু ব্যবহারকারী ভেতরের পর্দায় ফাটলের অভিযোগ তুলেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর (সোমবার) অ্যাপল স্বীকার করেছে, ‘অল্প সংখ্যক’ আইফোন ডুও ইউনিটের ভেতরের ডিসপ্লেতে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ ফোন তারা বদলে দেবে। সমস্যায় পড়া ব্যবহারকারীদের অ্যাপলকেয়ারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ডেইলি স্টারের তথ্য অনুযায়ী, ফোনটির দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার (১ হাজার ৪৯৯ পাউন্ড) থেকে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু হলে অনলাইনে প্রাথমিক অর্ডার কয়েক মিনিটেই শেষ হয়ে যায়। জটিল উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে বিশ্লেষকেরা সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা করছেন; তাইওয়ানের ইকোনমিক ডেইলির বরাতে ডেইলি স্টার লিখেছে, পরবর্তী চালান জানুয়ারির আগে আসার সম্ভাবনা কম।

সপ্তাহান্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ভেতরের পর্দার মাঝ বরাবর কব্জার কাছে ফাটল ও দাগ দেখা গেছে। গার্ডিয়ানের বরাতে ডেইলি স্টার জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, কেনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্দা ফেটে গেছে; গার্ডিয়ান এ বিবরণ যাচাই করতে পারেনি। ব্লুমবার্গ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবহারকারীদের মধ্যেও একই ধরনের অভিযোগের কথা জানিয়েছে।

মেরামতবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইফিক্সিট টিয়ারডাউন ফুটেজ, পেটেন্ট ও সিটি স্ক্যান ব্যবহার করে কব্জার ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন তৈরি করেছে। তাদের বিশ্লেষণে অভিযোগ করা ক্ষতিগুলো পর্দার নিচ দিয়ে যাওয়া ডিসপ্লে ক্যাবলের ঠিক নিচে, মাঝের সাপোর্ট বারের কাছে জড়ো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ফোন ভাঁজ করার সময় বারটি পর্দার পথ থেকে পুরোপুরি সরছে না বলে সেখানে চাপের বিন্দু তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আইফিক্সিট বলেছে, তাদের পরীক্ষা করা ভাঁজযোগ্য ফোনগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে মেরামতযোগ্য; এসব বিশ্লেষণে অ্যাপল প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মন্তব্য করেনি।

অ্যাপল ত্রুটির কারণ জানায়নি, আক্রান্ত ইউনিটের সংখ্যাও বলেনি। আইডিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, নতুন পণ্য বাজারে এলে এমন সমস্যা ‘বেশ স্বাভাবিক’; অ্যাপলের দ্রুত বদলে দেওয়ার প্রস্তাবকে তিনি ‘সঠিক প্রথম পদক্ষেপ’ বলেছেন। ২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ডের সমস্যার সঙ্গে তুলনা টেনে তাঁর ভাষ্য, দ্রুত ও স্বচ্ছ সাড়া ক্ষতি সীমিত রাখতে পারে।

সিসিএসের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড সতর্ক অবস্থান নিয়ে বলেছেন, সমস্যা ব্যাপক হওয়ার প্রমাণ এখনো দেখছেন না। ডেইলি স্টার আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন সিইও জন টার্নাসের অধীনে এটি অ্যাপলের সবচেয়ে আলোচিত পণ্য উন্মোচন।

তথ্যসূত্র

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন