বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, দালাল থেকে সাবধান

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই তারিখের আগে করা কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ করা হবে না।

রাতের আলোয় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ ভবন
ফাইল ছবি: ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২। · ছবি: Jubair Bin Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আবার চালুর পথে আরেক ধাপ এগোল। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৬ অক্টোবরের (সোমবার) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারে ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ওই তারিখের আগে করা কোনো পরীক্ষা ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ বা প্রক্রিয়া করা হবে না।

অনুমোদিত কেন্দ্রের তালিকা শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে; আইন মেনে চলা ও সেবাদানের সক্ষমতার ভিত্তিতে তালিকায় কেন্দ্র যোগ বা বাদ দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো কেন্দ্র বা রিক্রুটিং এজেন্সি পরীক্ষা করাতে বা করার ব্যবস্থা নিতে পারবে না। বিএমইটির ছাড়পত্রের আবেদনে এজেন্সিগুলোকে আপাতত ‘ভিসা উইথ রেফারেন্স’ (ভিডিআর) কাগজপত্রসহ অনুমোদিত কেন্দ্রে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, অননুমোদিত পরীক্ষার নামে দালাল ও অসাধু এজেন্সি কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ এসেছে। তাই কেন্দ্র বা এজেন্সির অনুমোদন যাচাই না করে পাসপোর্ট বা টাকা না দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা, মেডিক্যাল কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত, এজেন্সির বিদেশে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত কিংবা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এর আগে ১৫ অক্টোবর বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছিল, মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বিনা খরচে নিতে রাজি হয়েছে এবং ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের জন্য তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসল ১টি, প্রসেসিং বা সেবাদানকারী এজেন্সি ২৫টি ও রিক্রুটিং এজেন্সি ৩১২টি। তালিকাভুক্ত এজেন্সি নিজেরাই নিয়োগকর্তা খুঁজে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং নিজ নিজ লাইসেন্সের আওতায় বিএমইটির ছাড়পত্র নেবে। দুই দেশের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর।

২৮ অক্টোবর টিবিএসের আরেক প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুরের বরাতে বলা হয়েছে, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীরা যাওয়া শুরু করতে পারেন, প্রথমে বোয়েসলের মাধ্যমে, পরে ধাপে ধাপে বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে। ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর পরিকল্পনা প্রথমে থাকলেও তিনি বলেছেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ‘পুরোপুরি বিনামূল্যে’ হবে না; বিমানভাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরকারি সেবা ফি কর্মীদের দিতে হবে। এজেন্সি মূল্যায়নের কার্যকর কোনো গ্রেডিং ব্যবস্থা এখনো নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তথ্যসূত্র

চাকরি থেকে আরও পড়ুন