বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার শেষ হয়েছে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা হয়েছে, এর মধ্যে ঢাকা শহরে ২৫৮টি। দশমীর দিন সকালেই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সকাল ৭টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দশমী পূজা শুরু হয়; ৯টায় সম্পন্ন হয় দর্পণ বিসর্জন, অর্থাৎ দেবীর প্রতিবিম্বের প্রতীকী বিসর্জন। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলে সিঁদুর খেলা। একই সময়ে, ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজা কমিটির প্রায় ১০০ সদস্য।
বিকেল ৪টায় পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয় বিসর্জনের শোভাযাত্রা। জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায়সাহেব বাজার হয়ে প্রতিমা বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে নেওয়ার কথা ছিল, রাত ১০টার মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর আশা করা হয়েছিল। রাজধানীতে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর ১১টি ঘাট বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত ছিল।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল প্রতিমা প্রতি বছর বিসর্জন দেওয়া হয় না, এক বছর রেখে দেওয়া হয়; বিডিনিউজ২৪ লিখেছে, এর বদলে এবার সপ্তমীতে স্থাপিত কলাবউ বিসর্জনের কথা ছিল। উৎসবের সঙ্গে সেবামূলক কাজও যুক্ত ছিল: মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা শিবির চালায়, আর প্রায় ৫০ বছর ধরে চলা মন্দিরের রক্তদান কর্মসূচি হয় দশমীর বিকেলে। নবমীর রাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মহাপ্রসাদ পান।
পূজা ঘিরে সতর্কতার বার্তাও ছিল। টিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪ অক্টোবরের এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকা, যাচাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট শেয়ার না করা, মণ্ডপে ব্যাগ না আনা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা এবং আতশবাজি-পটকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়।
কালিঙ্গা টিভির প্রতিবেদনে বিএসএসের সূত্রে বলা হয়েছে, এবার মণ্ডপসংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি; সরকারি ছুটি তিন দিনে বাড়ানোয় সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছিল। বিডিনিউজ২৪-কে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী বলেছেন, রাতে মুসলিম সহকর্মী ও তাঁদের সন্তানরাও পূজা দেখতে আসেন, আর তাঁরা পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন ধরে রাখতে চান।
