ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠকে বুধবার গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের স্বজনদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিএসএসের বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, কমিটি মোট ৪৮ জনের বক্তব্য শুনেছে।
গত ১৭ বছরে জোরপূর্বক গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার, এখনো নিখোঁজদের স্বজন এবং গুমের পর ফিরে আসা কয়েকজন বৈঠকে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মায়ের ডাকসহ কয়েকটি সংগঠন তাঁদের উপস্থিতির আয়োজনে সহায়তা করেছে বলে বিএসএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। কয়েকজন বক্তা আবেগাপ্লুত হয়ে বক্তব্য শেষ করতে পারেননি।
স্বজনদের দাবি, মন্ত্রীর বক্তব্য
ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের পক্ষে সংবিধান সংশোধনের কথা বলেন। দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সহায়তার দাবিও উঠেছে বলে বিএসএস জানিয়েছে। উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্যও নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকের পর সংসদ মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সংবিধানেই সুরক্ষিত এবং গুমের বিরুদ্ধে এই সুরক্ষা যথেষ্ট; এর পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আইনও করা হয়েছে। বিএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে আরও আইন করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী ওই বাহিনী নয়, অন্য কোনো বাহিনী তদন্ত করবে, এ কথা মন্ত্রী ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। বিএসএস জানিয়েছে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ আদালত দিতে পারেন; সেই সম্পদ যথেষ্ট না হলে রাষ্ট্রও ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তি আদালতের অনুমোদনে ব্যবস্থাপনার সুযোগও ওই আইনে আছে।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কথাও বলেছেন; এর গঠন, দায়িত্ব, সময়সীমা এবং অনুসন্ধান কমিটি বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রস্তাব কমিটি পর্যালোচনা করবে। বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সম্পাদকসহ বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে; এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
