ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ম্যাচেই দুটি বড় অধ্যায় লেখা হলো রাওয়ালপিন্ডিতে। ২২ অক্টোবর পাকিস্তানে চলমান ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের জবাবে ৮ উইকেটে ৪৩০ তুলে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। ৪৯.৫ ওভারে, অর্থাৎ এক বল হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে তারা।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের কেন্দ্রে ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ১১৬ বলে ২০২ রান করেছেন তিনি, ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায়; ২০০ রানে পৌঁছাতে লেগেছে ১১৪ বল। আল জাজিরা ও আরব নিউজের বিবরণ অনুযায়ী গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের শুবমান গিলের ১১৭ বলের ইনিংসকে পেছনে ফেলে এটি ওয়ানডের দ্রুততম দ্বিশতক, আর ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটারের প্রথম ওয়ানডে দ্বিশতক। বেন স্টোকসের ১৮২ রানের ইংল্যান্ড-রেকর্ডও পেরিয়ে গেছেন ব্রুক।
জো রুট ৬৬ বলে ৬৯ রান করে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৮ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন, নিজের ১৯৭তম ম্যাচে। রুট ও ব্রুক গড়েছেন ১৫৯ রানের জুটি, টম ব্যান্টন করেছেন ৫০। শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ড তুলেছে ১৫৬ রান; এর মধ্যে উইল জ্যাকস ৩০ বলে অপরাজিত ৬৬ করেন। ৪২৯ পাকিস্তানের মাটিতে ইংল্যান্ডের প্রথম ৪০০-র বেশি ওয়ানডে সংগ্রহ, আর এই ম্যাচে পাকিস্তানের যেকোনো ভেন্যুতে আগের সর্বোচ্চ ওয়ানডে সংগ্রহ ৩৭৫/৩-ও পেরিয়ে গেছে।
জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত গড়েন পাভান রত্নায়েকে; তিনি ১০৬ বলে ১৩০ রান করেন, ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কায়। আভিষ্কা ফার্নান্দোর সঙ্গে তাঁর তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১৬৬ রান, আর দাসুন শানাকার সঙ্গে ৭৯ বলে ১৩৩ রান। ফার্নান্দো ও শানাকা দুজনেই আউট হন ৯৭ রানে; শানাকার ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা ও ৬টি চার।
শেষ ওভারে জিততে দরকার ছিল ৮ রান। জশ টাং ওই ওভারে দুটি উইকেট নেন, কিন্তু শেষ ওভারের শেষ থেকে দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন জেনিথ লিয়ানাগে; তিনি ২৭ বলে অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে। ওয়ানডেতে সফল রান তাড়ার রেকর্ড এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার, ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫।
ক্রিকেট ডটকম ডটএইউ-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ব্রুকের কথায়, “দুর্ভাগ্যক্রমে আমি ২০০ করেছি, কিন্তু সেটা ম্যাচজয়ী হয়নি।” একই প্রতিবেদনে ব্রুক শ্রীলঙ্কার খেলারও প্রশংসা করেছেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী টুর্নামেন্টে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড দুই দলকেই হারিয়েছে; ক্রিকেট ডটকম ডটএইউ লিখেছে, দুই ম্যাচে দুই হার নিয়ে লাহোরের ফাইনালে উঠতে হলে ইংল্যান্ডকে পরের ম্যাচ জিততেই হবে।


