পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বুধবার (২৮ অক্টোবর) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (ফজল) বা জেইউআই-এফের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান অভিযোগ করেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় (কেপি) জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সময় সরকার সংবিধানকে “অপব্যবহার” করেছে। ডনের খবর অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্য ছিল, কেপিতে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে “জোর করে”, জনমতের মাধ্যমে নয়। কেপি সরকার নিয়ে তাঁর আপত্তি থাকলেও এভাবে সরকার সরানো পরিবর্তনের পথ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকার ১১ অক্টোবর সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে কেপিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করে; প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ফেডারেল মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করেন। ডনের খবরে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকারের “ইচ্ছাকৃত বিচ্ছিন্নতা”র কথা উল্লেখ করেছে। প্রদেশটি এত দিন শাসন করছিল কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই); আল জাজিরার খবরে, ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের পরিকল্পিত মার্চ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত আসে।
আল জাজিরার ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পিটিআই পদক্ষেপটি প্রত্যাখ্যান করেছে; দলটির চেয়ারম্যান গওহর আলী খান প্রশ্ন তুলেছিলেন, জরুরি অবস্থা যদি ১২টি জেলায় দরকার হয়, তবে গোটা প্রদেশে গভর্নরের শাসন কেন। আইনমন্ত্রী আজম নজির তারার তখন বলেছিলেন, জরুরি অবস্থা জারির মৌলিক কারণ আইনশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই। একই প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরীর বরাতে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি আটক আছেন। সংশ্লিষ্ট ১২টি “নির্ধারিত জেলা”, যার বেশির ভাগই আফগান সীমান্তঘেঁষা সাবেক উপজাতীয় এলাকা, দেখভালের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠনের কথাও ওই প্রতিবেদনে ছিল।
ফজলুর রহমান ১১ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনাও দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, কেন্দ্র ও কেপির মধ্যে উত্তেজনা কমাতে তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং “রক্তপাত এড়ানোই” ছিল লক্ষ্য; ওই দিন সকালে উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার তাঁকে জানান, মন্ত্রিসভা সম্মত হচ্ছে না এবং “যেকোনো মূল্যে” গভর্নরের শাসন জারি করতে হবে। তিনি নতুন একটি “চার্টার অব ডেমোক্রেসি” প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে “অসাংবিধানিক” পদক্ষেপ ঠেকানো যায়।
সরকারের পক্ষে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী জানান, কেপিতে গভর্নরের শাসন থাকবে মাত্র ছয় মাস এবং জরুরি অবস্থা প্রযোজ্য হবে কেবল সন্ত্রাসকবলিত জেলাগুলোতে। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি প্রাদেশিক সম্পদ ব্যবহার করে ইসলামাবাদ অভিমুখে মার্চ করেছেন। আল জাজিরার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে গভর্নরের শাসন দুই মাস করে বাড়ানো যায়, তবে সব মিলিয়ে ছয় মাসের বেশি নয়।
