পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ২৮ অক্টোবর গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শ্রমপরিস্থিতি ও নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। টিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রীর মতে এতে শ্রমিক অসন্তোষ কমবে এবং শিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরবে।
এর আগের দিন, ২৭ অক্টোবর সিরডাপ সম্মেলন কেন্দ্রে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের (টিসিসি) ৯৬তম এবং পোশাকখাতের টিসিসির ২৫তম সভায় মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ছয় সদস্যের বোর্ডে মালিক, শ্রমিক, সরকার ও স্বতন্ত্র প্রতিনিধি থাকবেন। ডেইলি স্টারের তথ্য অনুযায়ী, মালিকপক্ষ তাদের তালিকা আগেই দিয়েছে; শ্রমিকপক্ষের তালিকা পেলে গেজেট প্রকাশ হবে। ২৮ অক্টোবর টিবিএস লিখেছে, সরকার এখন মালিক ও শ্রমিক, দুই পক্ষেরই প্রতিনিধির তালিকা হাতে পেয়েছে।
মন্ত্রী মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের নিয়মিত ও বকেয়া মজুরি পরিশোধ করতে। গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের সমস্যা মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে একটি বিশেষ সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অভিযোগ থাকলে ‘রাস্তায় বিশৃঙ্খলা’ না করে সেলে জানাতে বলেছেন তিনি।
২৭ অক্টোবরের সভায় মন্ত্রী আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করতে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এও বলেন, শিল্পখাতে কোনো তৃতীয় পক্ষকে কোনো মূল্যেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম গাজীপুর ও কালিয়াকৈরে চলমান বিক্ষোভে উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত টেকসই সমাধান চেয়েছেন, আর বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম শ্রমিকদের কারখানা ভাঙচুর থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মজুরির অঙ্ক, বোর্ডের সদস্যদের নাম বা গেজেটের নির্দিষ্ট তারিখ, এসব এখনো প্রকাশ্যে আসেনি; সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতেও এর উল্লেখ নেই। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার সভায় জানান, মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ডের প্রক্রিয়া শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং মজুরি বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, নিত্যপণ্যের দাম এবং গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা চলছে।
পোশাক উদ্যোক্তাদের আরেকটি উদ্বেগ রপ্তানি প্রণোদনা। টিবিএস বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নথির বরাতে জানিয়েছে, জুলাই–সেপ্টেম্বরের রপ্তানি নগদ সহায়তা বাবদ সরকারের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাওনা ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা; জুন পর্যন্ত পরিশোধ হয়েছে। বিকেএমইএ সভাপতি হাতেমের ভাষ্য, রপ্তানিকারকেরা সাধারণত জাহাজীকরণের প্রায় ১৮ মাস পর প্রণোদনা পান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিতে (২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য) ৪৩টি রপ্তানি খাতে ০ দশমিক ৩০ থেকে ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা আছে; পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য হার ৫ শতাংশ।

