বিশ্বব্যাংক ২৮ অক্টোবর (বুধবার) প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’-এ (বছরে দুবার প্রকাশিত প্রতিবেদন) জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়বে এবং ২০২৭ সালে তা ৭ শতাংশ কমতে পারে। রয়টার্সের বরাতে বিডিনিউজ২৪ লিখেছে, এ বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস, যা ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর সর্বোচ্চ। টিবিএস জানিয়েছে, খাদ্য, জ্বালানি ও সামগ্রিক পণ্যের সব পূর্বাভাসই এপ্রিলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম এ বছর ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার হবে বলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে, মহামারির সময় বাদ দিলে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। চাহিদা কমতে পারে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা কোভিড-১৯ ও ১৯৮০ সালের তেলসংকটের পর তৃতীয় বৃহত্তম পতন।
কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে এসেছে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ। টিবিএসের প্রতিবেদনে একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ বলা হয়েছে; এর ফলে তেল, গ্যাস ও সারের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কৃষ্ণসাগরে খাদ্যশস্য পরিবহনে ব্যাঘাত এবং চরম এল নিনো ঘটনার আশঙ্কা; প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করবে।
খাদ্যের দাম ২০২৬ সালে ১০ শতাংশের কিছু বেশি এবং ২০২৭ সালে ৭ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে; দুই বছরে সম্মিলিত বৃদ্ধি প্রায় ১৮ শতাংশ। সারের দাম ২০২৬ সালে ১৪ শতাংশ বাড়বে বলে ধরা হয়েছে, মূলত ইউরিয়ার দামের লাফের কারণে; ২০২৭ সালে তা ২০২৫ সালের স্তরে ফিরতে পারে। ধাতুর দাম ২৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে পারে, অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিন রেকর্ড গড়েছে, যার পেছনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান ও ডেটা সেন্টারের চাহিদা। মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়তে পারে ৪০ শতাংশ।
ঝুঁকির দৃশ্যপটে বিশ্বব্যাংক বলছে, শক্তিশালী এল নিনো, কৃষ্ণসাগরে জাহাজে হামলা বা ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামে আরও লাফ ‘খাদ্য সংকট’ ডেকে আনতে পারে। প্রতিকূল দৃশ্যপটে ২০২৭ সালে ব্রেন্টের গড় দাম ১০৫ ডলারে উঠতে পারে এবং খাদ্যপণ্যের দাম মূল পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি হয়ে ২০২২ সালের স্তর ছাড়াতে পারে। বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছে, ২০১০-এর দশকের শুরুর এমন সংকটে ৪ কোটির বেশি মানুষ অতিরিক্ত চরম দারিদ্র্যে পড়েছিল।
বিশ্বব্যাংকের উপ-প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেছেন, ‘পণ্যবাজার একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় ধাক্কার শিকার হচ্ছে।’ তাঁর মতে, অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দরিদ্রতম মানুষের সুরক্ষা এবং ভারী ঋণের বোঝায় থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্যাংকটি; বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে এর সুবিধাভোগী হিসেবে ২৫টি দেশের উল্লেখ আছে।

