বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি ২০২৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে আশা করা যাচ্ছে। বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা জানান। বিএসএসের বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ খবর প্রকাশ করেছে।
ডেপুটি গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৩১ শতাংশে নেমেছে; ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে তিনি আশা করেন। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সম্পদের মান পর্যালোচনা এ পর্যন্ত ১৫টি ব্যাংকে শেষ হয়েছে, বাকিগুলোতে চলছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আমদানি ব্যয়ের প্রায় ছয় মাস মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংস্কারের পরিকল্পনা ও ব্যাংকারদের মূল্যায়ন
মূলধন ঘাটতিতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমাধানে ‘ব্যাংক রিস্ট্রাকচারিং অ্যান্ড রেজল্যুশন ফান্ড’ গঠনের উদ্যোগের কথাও বলেন ডেপুটি গভর্নর। তাঁর আশা, মানি লোন কোর্ট আইন ও নতুন বিশেষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করবে।
একই অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকগুলোর সুশাসনে ভালো দিনের ইঙ্গিত থাকলেও বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ প্রায় থেমে আছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানান, বেসরকারি খাতে প্রকাশিত ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ; তবে জমা সুদ ও বাধ্যতামূলক ঋণ বাদ দিলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি এত হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় আছে। তাঁর উল্লেখ করা পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) জুলাইয়ের ৫৭.৮ থেকে সেপ্টেম্বরে ৪৮.৬-এ নেমেছে; ৫০-এর নিচের মান সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়।
আরেফিন আরও বলেন, খেলাপি ঋণ এখন প্রায় ৩০ শতাংশ, যা আগে ৯ শতাংশ দেখানো হতো; এটি স্বীকার করাই পুনরুদ্ধারের সূচনা। ইতিবাচক দিক হিসেবে তিনি স্থিতিশীল বিনিময় হার ও চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের কথা বলেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (ব্যাব) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, খেলাপিদের ঋণ পরিশোধে বাধ্য করতে বিচার ও আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার দরকার। প্রচলিত সময়সাপেক্ষ পদ্ধতিতে ফল আসবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বিদেশি নীতি হুবহু অনুসরণের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন।


