বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণের ছাড় ৪২% কমেছে, পরিশোধ ছাড়ের দ্বিগুণের বেশি

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী জুলাই–সেপ্টেম্বরে প্রায় ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ডলারের বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে, আর ঋণের আসল-সুদ বাবদ গেছে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার।

ওপর থেকে তোলা ঢাকা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ ভবনের সারি
প্রতীকী ছবি: ঢাকা শহরের একটি আকাশদৃশ্য। · ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ ও অনুদান হিসেবে পেয়েছে ৬৬২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৫৪১ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন এবং অনুদান ১১০ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১ দশমিক ১৪৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

একই তিন মাসে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) হিসাবে ১ হাজার ৩৫১ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে এটি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আসল ছিল ৮৫৮ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ও সুদ ৪৯২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ প্রতি ১ ডলার সহায়তার বিপরীতে পরিশোধ হয়েছে ২ দশমিক ০৪ ডলার। বিডিনিউজ২৪ লিখেছে, কিস্তি পরিশোধ নতুন ছাড়ের চেয়ে ১০৪ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি ছিল।

ছাড়ের বড় অংশ এসেছে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে। দুই সংস্থা মিলিয়ে দিয়েছে ৩৫৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার, যা মোট ছাড়ের প্রায় ৫৪ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে ভারত (১০৪ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার), এর পরে জাপান (৪৪ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন), রাশিয়া (২০ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন) ও চীন (১৪ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার); এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) কোনো অর্থ ছাড় করেনি।

নতুন প্রতিশ্রুতির চিত্র মিশ্র। টিবিএস জানিয়েছে, প্রান্তিকে ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ২৭৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে; এর মধ্যে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি, ভারত, চীন ও রাশিয়া, এই ছয় উন্নয়ন সহযোগী প্রান্তিকে নতুন কোনো ঋণ-প্রতিশ্রুতি দেয়নি, যদিও আগে অনুমোদিত ঋণের অর্থ ছাড় চালু ছিল।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ২৪কে বলেন, বিদেশি ঋণের কিস্তি যে বাড়বে তা আগেই স্পষ্ট ছিল, এখন সেটাই দেখা যাচ্ছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, মেগা প্রকল্প ও বাজেট সহায়তার বড় ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় কিস্তি ধাপে ধাপে বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক ঋণ এখনো জরুরি, বিশেষ করে বাজেট সহায়তা হিসেবে, কারণ তা অনুমোদনের পর দ্রুত মেলে; প্রকল্প-ঋণের অর্থ ছাড় হয় ক্রয়প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে, তাতে যথেষ্ট সময় লাগে। সরকারের উচিত কম সুদের ঋণ জোগাড়ে মনোযোগ দেওয়া, বলেন তিনি।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী টিবিএসকে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধের বাধ্যবাধকতা কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ নেই এবং আগামী দুই-তিন বছর এই বোঝা বাড়বে বলে তাঁর ধারণা। তাঁর সতর্কবার্তা, বিদেশি অর্থের প্রবাহ দুর্বল থাকলে সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের দিকে ঝুঁকতে পারে; কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিলে মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলে বেসরকারি খাতের ঋণে চাপ পড়তে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্নয়ন সহযোগীরা সতর্ক অবস্থানে আছে বলেও মনে করেন তিনি, আর সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

তথ্যসূত্র

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন