বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে বাফুফে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

মরক্কোর রাবাত থেকে ভুটানে যাওয়ার পথে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নামেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো; বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ওপর থেকে তোলা দৃশ্য; মাঝখানে ফুটবল মাঠ, চারপাশে ট্র্যাক ও গ্যালারি
ফাইল ছবি: ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। ছবিটি ফিফা সভাপতির সফরের নয়। · ছবি: Zubair Mitul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ১৮ অক্টোবর, রোববার ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন। মরক্কোর রাবাত থেকে ভুটানে যাওয়ার পথে তাঁর বিশেষ বিমান নামে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে; সেখানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা তাঁকে স্বাগত জানান। বৈঠকের পর অন্য একটি বিমানে তিনি ভুটানের উদ্দেশে রওনা হন।

ফিফার নিজস্ব বিবৃতি অনুযায়ী এটি ইনফান্তিনোর দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর; প্রথমটি ছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ফিফা জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বাফুফের কয়েকজন সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারও উপস্থিত ছিলেন, আর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ফিফা ও বাফুফের চলমান ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা। বাংলাদেশে পৌঁছে খেলাটির প্রতি মানুষের আবেগ টের পাওয়ার কথা বলে ইনফান্তিনো দেশটিকে ‘সত্যিকারের ফুটবলপ্রেমী দেশ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তাবিথ আউয়াল আলোচনাকে ‘অনানুষ্ঠানিক ও সংক্ষিপ্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। এশিয়ানেট নিউজেবলের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানান, বাফুফেকে ১৫ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ফেডারেশন দুটি স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিচ্ছে। এসব প্রকল্প শুরু হলে ইনফান্তিনোকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানানোর আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

আলোচনায় উঠে এসেছে ফিফার ফরওয়ার্ড কর্মসূচির তহবিল ব্যবহার, প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং অন্য মহাদেশীয় কনফেডারেশনের দলগুলোর বিপক্ষে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগের বিষয়। এশিয়ানেটের প্রতিবেদনে আরও আছে স্টেডিয়ামে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্কুলে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার প্রসঙ্গ। তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, আসন্ন ফিফা নির্বাচন বা নির্দিষ্ট কোনো টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়নি। ফিফার সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে বাফুফে আশাবাদী বলেও তিনি জানান।

ফিফা তাদের বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফুটবলের সাম্প্রতিক কিছু অর্জনও তুলে ধরেছে। জুনে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় দল, আর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দলটি উদ্বোধনী ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিয়েছে। নারী দল প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের ২০২৬ আসরে জায়গা করে নিয়েছে, আর এএফসি এপ্রিলে বাফুফেকে গ্রাসরুটস চার্টারে ব্রোঞ্জ থেকে সিলভার মর্যাদায় উন্নীত করেছে।

বাফুফে ফিফা ফরওয়ার্ডের তহবিল হিসেবে পাওয়া ১৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের একটি বড় অংশ দেশের ৬৪ জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করেছে বলে ফিফা জানিয়েছে। ইনফান্তিনো বলেছেন, এই আবেগপ্রবণ দেশে ফুটবলের ভবিষ্যৎ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উজ্জ্বল। তরুণ একাডেমি, অবকাঠামো ও স্কুল কর্মসূচির পরিকল্পনা চলছে বলেও ফিফার বিবৃতিতে উল্লেখ আছে।

তথ্যসূত্র

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন