ঘূর্ণিঝড় আর্নব বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থলভাগে ওঠার সময় এটি ছিল “অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়” পর্যায়ে, যা ভারতের শ্রেণিবিন্যাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তর; ভেতরের দিকে সরে যাওয়ার পর সেটিকে “তীব্র” ঘূর্ণিঝড়ে নামিয়ে আনা হয়। এএফপির বরাতে ডন জানিয়েছে, ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) সকাল সাড়ে ৮টার হালনাগাদে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার, আর দমকা হাওয়া ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত। আল জাজিরা ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের কথা উল্লেখ করেছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র সিং বুন্দেলা বলেছেন, ঝড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্ধ্রপ্রদেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রয়টার্সকে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুজনের মৃত্যু হয়েছে গাছ পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা চিঠিতে নাইডু অন্তত ১৮০টি ঘর ধ্বংস ও ২২০টি গাছ উপড়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন। এর আগে সকালে এএফপির খবরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর কোনো প্রাণহানি না হওয়ার কথা বলেছিল; ফলে হতাহতের তথ্য দিনের মধ্যেই বদলেছে।
ঝড় আঘাত হানার আগের দিন অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা থেকে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। আগের দিনের প্রতিবেদনে অন্ধ্রপ্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে বলা হয়েছিল, ঝড়ের সম্ভাব্য পথে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস করেন এবং সোমবার রাত পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে; সংস্থাটির অনুমান ছিল, প্রায় ৪ লাখ মানুষকে সরানো দরকার। কিছু ট্রেন ও বিমান বাতিল হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকটি স্কুল। আইএমডি ১ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দিয়েছিল, যাতে অন্ধ্রের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা বন্দরনগরী কাকিনাডায় রাতভর ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টি হয়েছে এবং উপকূলে আছড়ে পড়েছে বড় ঢেউ। ভোরে ফিরে এসে বাসিন্দারা তুলনামূলক সীমিত ক্ষতি দেখতে পেয়েছেন বলে সংবাদসংস্থাটি জানিয়েছে। ৪০ বছর বয়সী বাসিন্দা সাদিক এএফপিকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি “খুব বিপজ্জনক” হয়ে উঠেছিল, তবে আগাম সতর্কবার্তার কারণে মানুষ প্রস্তুতি নিতে পেরেছেন। সরকার দুই দিনের স্কুলছুটি ঘোষণা করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের খবরে বলা হয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম “আর্নব” বাংলাদেশের দেওয়া এবং এর অর্থ “সমুদ্র”। ঝড়ের প্রভাব নিয়ে প্রতিবেশী নেপাল ও শ্রীলঙ্কাও সতর্কতা জারি করেছে। আল জাজিরা ও এএফপি জানিয়েছে, নেপালে পর্যটকদের বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উঁচু পার্বত্য এলাকায় না যেতে বলা হয়েছে, কারণ সেখানে ভারী বৃষ্টি, তুষারঝড় ও তুষারধসের আশঙ্কা রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দেশটির আবহাওয়া দপ্তর হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা দিয়েছে।


