জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নিযুক্ত দুই ডজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভারত সরকারকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “অতিরিক্ত বল” প্রয়োগ বন্ধ করতে বলেছেন। রয়টার্সের তথ্যের ভিত্তিতে আল জাজিরা জানিয়েছে, বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তও দাবি করেছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা জাতিসংঘের কর্মী নন; পরিষদ তাঁদের নির্দিষ্ট মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার দায়িত্ব দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের খবর পাওয়া গেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন, কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন; বিক্ষোভ ও আটক-সংক্রান্ত ঘটনায় যৌন সহিংসতা ও লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের খবরে বিশেষ উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা সমাবেশের ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বায়োমেট্রিকসহ ডিজিটাল নজরদারি ও ইন্টারনেট বিঘ্নের অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভোটার তালিকার “বিশেষ নিবিড় সংশোধন” (এসআইআর)। আল জাজিরা জানিয়েছে, কক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), অন্যান্য বিরোধী দল ও শিক্ষার্থী সংগঠন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাইছে; তাদের দাবি, তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে এবং এতে দরিদ্র, গৃহহীন ও মুসলমানসহ জাতিগত সংখ্যালঘুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের ভাষ্য, তারা নকল, মৃত, স্থানান্তরিত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে এবং ভুলবশত বাদ পড়া কেউ আপিল করতে পারবেন।
এএফপির বরাতে ফ্রান্স২৪ জানিয়েছে, বিজেপির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নথিহীন মুসলমান অভিবাসীর নাম ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে ঢুকেছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সমর্থকদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনপ্রধানকে সরানোর আবেদন জমা দেন। ১৪ অক্টোবর সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়; পুলিশ বিক্ষোভের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা জন্তর মন্তরে ঢোকার পর এ ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্স২৪ জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (৩১) দিল্লির কনট প্লেস এলাকার সমাবেশে যাওয়ার পথে আটক হন এবং শনিবার (১৭ অক্টোবর) ছাড়া পান; ওই দিনই ছাত্রকর্মী নেহা বোরাও মুক্তি পান। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় রাঙ্কা ও দাস হেফাজতেই ছিলেন। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের বিবৃতি প্রসঙ্গে আল জাজিরা মনে করিয়ে দিয়েছে, ভারত এর আগেও এ ধরনের সমালোচনাকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

