বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তেহরানে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা, আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তুর্কি গোয়েন্দাপ্রধান ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন; সমাধান নিয়ে বিশ্লেষকদের মত মিশ্র।

তেহরানের আজাদি টাওয়ারের সামনের দৃশ্য; নিচে বিশাল খিলান এবং ওপরে নীল আকাশ
ফাইল ছবি: তেহরানের আজাদি টাওয়ার। · ছবি: Bernard Gagnon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। তাঁরা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন স্বাক্ষরকারী দেশের প্রতিনিধি। ডনের খবরে ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে বলা হয়েছে, বৈঠকের বিষয় ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এবং চার পক্ষ এই “প্রথম” বৈঠকের পরও আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

ডনের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি আগস্টে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এর আওতায় কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা সবার ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরটি উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের উদ্যোগের অংশ এবং এতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে সমর্থন করা হচ্ছে। ডন একে সৌদি আরব সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়ার পর সব সদস্যের সঙ্গে তেহরানের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বলে বর্ণনা করেছে।

আলোচনার প্রেক্ষাপটে রয়েছে এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ। ডন ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। আল জাজিরা আরও জানিয়েছে, ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর হুতি-হুমকির কারণে সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরে যেতে বলে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে নতুন হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে খবর আছে।

প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান “আঞ্চলিক ঐক্যের” ডাক দিয়েছেন এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে” এবং অঞ্চলে “নতুন পরিবেশ” তৈরি হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মুনিরের আগের সপ্তাহের তেহরান সফরের সময় এই বৈঠকের প্রস্তাব আসে।

আল জাজিরা কয়েকজন বিশ্লেষকের মত তুলে ধরেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলী ভায়েজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিভাজন ঘোচানোর বিশ্বাসযোগ্য সূত্র না থাকলে প্রতিনিধিদলগুলোর হাতে “সদিচ্ছা ছাড়া আর বেশি কিছু” থাকবে না। চ্যাটাম হাউসের সানাম ভাকিল তাৎক্ষণিক বৈঠক নিয়ে “সতর্ক আশাবাদী” হলেও স্থায়ী অগ্রগতি নিয়ে কম আশাবাদী; অন্যদিকে সৌদি পররাষ্ট্রনীতি-গবেষক উমর করিমের মতে, আলোচনায় নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা কম।

পরদিন মঙ্গলবার মস্কোয় পেজেশকিয়ান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করেই আমরা অঞ্চলের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম”; এএফপির বরাতে ডন এ কথা জানিয়েছে। একই খবরে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা তেহরানের আলোচনা পর্যালোচনা করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেছেন, এখন “বল ইরানের কোর্টে”।

তথ্যসূত্র

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন