ইসরায়েলের মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) সংসদ নির্বাচনে কোনো পক্ষই ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পাচ্ছে না বলে দেশটির গণমাধ্যমের হিসাবে দেখা যাচ্ছে। ডনে প্রকাশিত রয়টার্স ও এএফপির খবর অনুযায়ী, প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী, চরম ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট পাচ্ছে ৫৩ আসন, গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট ৪৮ এবং আরব দলগুলো ১৯ আসন। এসব হিসাব চূড়ান্ত নয় এবং বদলাতে পারে।
ভোটার-উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিরোধীরা ওই হামলার শোককে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেননি; ভোটারদের একটি অংশ চরম ডানপন্থীদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর জোট এবং অতি-অর্থোডক্সদের সামরিক নিয়োগ থেকে ছাড় নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ফল ঘোষণার আগেই দুই নেতা সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। ফ্রান্স২৪ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু “শক্তিশালী ডানপন্থী সরকার” গঠনের ডাক দিয়েছেন, তবে সরাসরি জয় দাবি করেননি। আইজেনকট বলেছেন, “জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে”; তিনি দ্রুত সরকার গঠনের চেষ্টার কথা জানান এবং নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, “নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে আপনার রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার সাহস দেখাবেন না।”
সমীকরণের কেন্দ্রে এখন আরব দলগুলো। আল জাজিরার হিসাবে তারা বর্তমান ১০ আসন থেকে বেড়ে ১৭ থেকে ১৯ আসন পেতে পারে; রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯ আসন হলে তা হবে অভূতপূর্ব। প্রচারের সময় আইজেনকট বলেছিলেন, তিনি আরব সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সরকার চালাবেন না, আর আল জাজিরার খবরে নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের ধারণাকে “লজ্জা ও অপমান” বলেছেন। অন্যদিকে বাম দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়াইর গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের পক্ষে মত দিয়েছেন, আর ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মনসুর আব্বাস বলেছেন, “আমরা এখানে আছি, আমরা প্রান্তে নই।”
এরপর কী হবে, সে বিষয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীকে মনোনীত করবেন, যিনি সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। এপি বলছে, লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হলেও প্রেসিডেন্ট সেই দলের নেতাকেই ডাকতে বাধ্য নন। জোট না হলে আগামী বছরের শুরুতে নতুন নির্বাচন হতে পারে, আর ততদিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। চূড়ান্ত ফল সপ্তাহের শেষে আসার কথা, যাতে সেনা সদস্য ও কূটনীতিকদের প্রায় পাঁচ লাখ ডাকযোগের ভোট যুক্ত হবে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ফলের খবরে শেকেল ডলারের বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ দুর্বল হয়ে ৩ দশমিক ১০ শেকেলে নেমেছে এবং তেল আবিবের প্রধান শেয়ারসূচক ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি ভোটারদের নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে দুজন মিলে ইরানে “কাজ শেষ” করতে পারেন। রয়টার্সের বরাতে ডন এ কথা জানিয়েছে।

