পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক এলাকার উত্তেজনার মধ্যে ফেসবুকে সাত সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ক্লিপে সামরিক ধাঁচের পোশাক পরা একদল সশস্ত্র মানুষকে বাড়িঘর ও গাছপালার কাছে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ফেসবুকের একটি পেজ দাবি করে, পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী ভারী অস্ত্র নিয়ে সাজেকে এলাকা দখলের চেষ্টা করছে। ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পোস্টটি দশ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছিল, প্রতিক্রিয়া পড়েছিল সাত হাজারের বেশি এবং শেয়ার হয়েছিল এক হাজারের বেশি।
ডিসমিসল্যাব ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ চালায়। তাতে ২০২১ সালের ২ নভেম্বর ইউটিউবে আপলোড হওয়া একই দৃশ্যের একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার শিরোনামে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রসঙ্গ ছিল। পোশাক, অস্ত্র, নড়াচড়া ও আশপাশের বাড়িঘর ভাইরাল ক্লিপের সঙ্গে মিলে গেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়। রিউমর স্ক্যানারও প্রায় একই ফল পেয়েছে। তারা দেখেছে, ২০২১ সালের ১ নভেম্বর নাইজেরিয়ার একটি কমিউনিটি টিভি ফেসবুকে ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ প্রকাশ করেছিল এবং দাবি করেছিল, দৃশ্যটি এনুগু রাজ্যের আওগু এলাকার এমগাওয়ো সম্প্রদায়ের।
সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনও এই অনুসন্ধানের সঙ্গে মেলে। ডিসমিসল্যাব উল্লেখ করেছে, আইকনস নিউজ ২০২১ সালের ২ নভেম্বর আওগু এলাকার এক গ্রামে সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল এবং তাতে একই ফুটেজ ছিল। সাহারা রিপোর্টার্স সেদিনই লেখে, সৈন্যরা নিজেরাই এসব দৃশ্য ধারণ করেছে বলে তারা জেনেছে; তবে তাদের প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল দেখানো হয় এবোনি রাজ্যের একটি গ্রাম। নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী তখন অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিওটিকে ‘প্রচারণা’ বলেছিল এবং তদন্তের কথা জানিয়েছিল। ডিসমিসল্যাবের মতে, ঘটনাস্থল নিয়ে সূত্রগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে, কিন্তু সবাই একমত যে ভিডিওটি ২০২১ সালের নাইজেরিয়ার। নাইজেরিয়ার ফাউন্ডেশন ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমও তখন ভিডিওটি যাচাই করেছিল।
রিউমর স্ক্যানার একটি সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করেছে। ফুটেজে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীকেই দেখা যাচ্ছে কি না, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ভিডিওটির সঙ্গে বাংলাদেশ বা পাহাড়ের কোনো গোষ্ঠীর সম্পর্ক নেই, এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট। সাজেকের নামে ছড়ানো অন্য পুরোনো ভিডিওও ডিসমিসল্যাব শনাক্ত করেছে। ২৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে তারা দেখায়, ‘পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ’ দাবিতে এক্সে ছড়ানো আরেকটি ভিডিও আসলে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর দ্য ইরাবতীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে আরাকান আর্মি ও দেশটির সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ের প্রতিবেদনের অংশ।
সব মিলিয়ে ভিডিওটি সাজেকের কোনো সাম্প্রতিক ঘটনার দৃশ্য নয়। ডিসমিসল্যাব একে ‘মিথ্যা’ এবং রিউমর স্ক্যানার ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে; দুই প্রতিষ্ঠানের মূল সিদ্ধান্ত এক, এটি অন্য দেশের পুরোনো ফুটেজ, যা চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভুল প্রসঙ্গে ছড়ানো হয়েছে।



