বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল নয়, ভিডিওটি অন্ধ্র প্রদেশের বন্নি উৎসবের লাঠি-লড়াইয়ের

রিউমর স্ক্যানারের যাচাইয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের মিছিল বলে ছড়ানো ভিডিওটি আসলে ভারতের কুর্নুল জেলার দেবরগট্টু গ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের।

বাঁশের লম্বা লাঠি ও জ্বলন্ত মশাল হাতে অনেক মানুষের জমায়েত; ওপর থেকে তোলা ভিড়ের ছবি
প্রতীকী ছবি: ভারতের বন্নি উৎসবে লাঠি হাতে জড়ো হওয়া মানুষ (কমন্সে ‘বন্নি উৎসব, ভারত’ শিরোনামে সংরক্ষিত, ২০২৬ সালে তোলা)। ছবিটি এই প্রতিবেদনে যাচাই করা ভাইরাল ভিডিওর অংশ নয়। · ছবি: Daniele Colucci / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অক্টোবরের শেষ দিকে ফেসবুকে লাঠি হাতে অনেক মানুষের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। কিছু পোস্টে বলা হয়, এটি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মশাল মিছিলের দৃশ্য। অন্য কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ময়মনসিংহে মশাল মিছিলে বাধা দেওয়া হলে যুবলীগের কর্মীরা সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। রিউমর স্ক্যানার দুই দাবির পোস্টই খতিয়ে দেখে ২৮ অক্টোবর ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করেছে।

ভিডিওর উৎস খুঁজতে গিয়ে রিউমর স্ক্যানার এক্সে ২৪ অক্টোবর পোস্ট করা একটি ভিডিও পায়, যার দৃশ্য ভাইরাল ক্লিপের সঙ্গে মিলে যায়। ওই পোস্টের আরবি ক্যাপশনে বলা হয়েছিল, এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের দেবরগট্টু গ্রামে বিজয়াদশমী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘বন্নি’ উৎসব, যাকে লাঠি-লড়াইও বলা হয়। ক্যাপশন অনুযায়ী ওই উৎসবে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রিউমর স্ক্যানার প্রতিবেদনে ভাইরাল ক্লিপ ও এক্সের ভিডিওর পাশাপাশি তুলনা দেখিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও দুটি সূত্র মিলেছে। ভারতের আর্কাইভ ও চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডফিল্মসইন্ডিয়ার ইউটিউবে এই উৎসবের আলাদা একটি ভিডিও আছে। রাশিয়ার সংবাদ সাইট ইনসিডেন্সিয়া.রু-ও একই লাঠি-লড়াই নিয়ে প্রতিবেদনে সেই ভিডিও ব্যবহার করেছে। রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ভিডিওটি আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের মিছিলের নয়; ময়মনসিংহ বা বাংলাদেশের কোথাও এর কোনো সম্পর্ক নেই।

স্বাধীন সংবাদ প্রতিবেদনও ঘটনাটির সঙ্গে মিলে যায়। আইএএনএসের বরাতে তেলঙ্গানা টুডে ২২ অক্টোবর জানিয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের কুর্নুল জেলার হোলাগুন্ডা মণ্ডলের দেবরগট্টু গ্রামে বুধবার গভীর রাতে বন্নি উৎসবে দুই দল গ্রামবাসী লাঠি নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন। দেবদেবীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর মধ্যরাতে প্রতিমা নিজেদের দখলে নিতেই এই লড়াই হয়, যা প্রতিবছরই অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদনে এক জনের মৃত্যু, শতাধিক আহত এবং ১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন থাকার কথা বলা হয়েছে। আশঙ্কাজনক রোগীর সংখ্যায় দুই সূত্রে সামান্য ফারাক আছে। এক হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকার কথাও ওই প্রতিবেদনে আছে।

স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শিব ভৈরবের রূপে লাঠি দিয়ে মণি ও মল্লাসুর নামের দুই অসুরকে বধ করেছিলেন; এই উৎসব সেই স্মরণে। অর্থাৎ ভিডিওটি ভারতের একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নয়। রিউমর স্ক্যানার তাই আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের মিছিলের দাবিটিকে ‘মিথ্যা’ বলে চিহ্নিত করেছে।

তথ্যসূত্র

ফ্যাক্টচেক থেকে আরও পড়ুন