সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালত ইসলামি আইনের ‘তাজির’ বিধি (বিচারকের বিবেচনাভিত্তিক শাস্তি) অনুযায়ী তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর হয়। ডিসমিসল্যাব বিডিনিউজ২৪-এর খবরের বরাতে লিখেছে, সিদ্ধান্তের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি বলে বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে। বুমও একই কথা উল্লেখ করেছে।
খবরটি ছড়ানোর পর সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক ছবি ও ভিডিও আসতে থাকে, যেগুলোকে ওই দুজনের বলে দাবি করা হয়। ডিসমিসল্যাব যাচাই করেছে ২০ অক্টোবর এক্সে প্রকাশিত সাত সেকেন্ডের একটি ভিডিও, যেটিকে বলা হয়েছিল ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের সামনের বিক্ষোভ। লেখার সময় ভিডিওটি প্রায় পাঁচ লাখ বার দেখা হয়েছিল। বুম যাচাই করেছে এক্সের একাধিক অ্যাকাউন্ট এবং একটি ইউটিউব সংবাদ চ্যানেলে ছড়ানো আরও চারটি দৃশ্য।
বুমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য বলে প্রচারিত একটি ভিডিও আসলে ২০১৫ সালের অন্য এক ঘটনার ফুটেজ। ডন ও নিউইয়র্ক টাইমসের সে সময়ের প্রতিবেদন মিলিয়ে বুম এটি নিশ্চিত করেছে। মসজিদের ভেতরে স্ত্রীর পেটে চুমু দেওয়ার ছবিটিতে দুই বাংলাদেশিকে নয়, মিসরের এক ব্লগার দম্পতিকে দেখা গেছে; তাঁরা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছবিটি ইনস্টাগ্রামে দিয়েছিলেন, আর মিসরীয় সংবাদমাধ্যম আল-মাসরি আল-ইয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফটোশুট হয়েছিল কাবার সামনে। কবরে মাটি দেওয়া এক শিশুর ভিডিওটি ১৪ অক্টোবরের অনেক আগের; ২৬ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের একটি স্থানীয় পেজ একই ভিডিও দিয়ে লিখেছিল, একটি মেয়ে বাবার কবরে মাটি দিচ্ছে। চতুর্থ ভিডিওটি এক ভ্লগারের; তিনি স্বামীর সঙ্গে ৭ আগস্ট ২০২৬ ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, মক্কায় স্বামীকে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন। পরে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি এই ভুল সম্পর্ক খণ্ডনও করেছেন।
দূতাবাসের সামনের বিক্ষোভ বলে প্রচারিত ভিডিওটির উৎস খুঁজতে ডিসমিসল্যাব কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ চালায়। তাতে ৩ অক্টোবর ফেসবুকের একটি অনলাইন সংবাদভিত্তিক পেজে প্রকাশিত ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়; ভিড়, ব্যানার ও আশপাশের দৃশ্য ভাইরাল ক্লিপের সঙ্গে মিলে গেছে। ওই দিনই জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও ঢাকায় দলটির বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও পোস্ট করা হয়, যার দৃশ্যও একই। ডিসমিসল্যাবের তথ্যমতে, কর্মসূচিটি ছিল দলের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে। অর্থাৎ ভিডিওটির সঙ্গে সৌদি আরবের ঘটনা বা দূতাবাসের সামনের কোনো কর্মসূচির সম্পর্ক নেই।
সব মিলিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর আর এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ছবি-ভিডিও আলাদা বিষয়। বুম বলেছে, ছড়ানো দৃশ্যগুলো ‘পুরোনো, সম্পর্কহীন’ এবং ওই দুই বাংলাদেশির সঙ্গে এগুলোর কোনো যোগ নেই; ডিসমিসল্যাবও দূতাবাসের সামনের বিক্ষোভ বলে প্রচারিত ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা’ বলেছে। যাঁদের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও এভাবে ভুল প্রসঙ্গে ব্যবহার হয়েছে, তাঁরাও এই বিভ্রান্তির শিকার।



