1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
জিয়ার দেহাবশেষ শনাক্ত না করে দোয়া-জিয়ারত করা ইসলাম বিরোধী গুনাহের কাজ - ebarta24.com
  1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
জিয়ার দেহাবশেষ শনাক্ত না করে দোয়া-জিয়ারত করা ইসলাম বিরোধী গুনাহের কাজ - ebarta24.com
বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

জিয়ার দেহাবশেষ শনাক্ত না করে দোয়া-জিয়ারত করা ইসলাম বিরোধী গুনাহের কাজ

হামজা রহমান (অন্তর)
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৩০ মে, ২০২২

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার লাশ আছে এটা নিশ্চিত না হয়ে সেখানে শ্রদ্ধা জানানো এবং দোয়া-জিয়ারত করা ইসলাম বিরোধী গুনাহের কাজ। কারণ এখানে কোনো মুসলমানের দেহাবশেষ আছে কিনা বা অন্য কোনো ধর্মের কারো লাশ কিনা সেটাও এখনো নিশ্চিত নয়।

জিয়াউর রহমানের লাশ কেউ দেখে নাই, তখনকার পত্রিকার কাটিং দেখলে এটা স্পষ্ট হয়। তখনকার পত্রিকায় লেখা আছে জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান পিনু লাশ দেখার জন্য খুব মিনতি করেছিল, তাকে দেখানো হয় নাই, খালেদা জিয়াও দেখেন নাই, এমকি কেউই জিয়ার লাশ দেখে নাই। আমার আব্বুকে দেখাও, আব্বুকে দেখাও না কেন, আব্বুকে দেখবো; পিনু-কোকোর এই আকুতির কথাও পত্রিকায় ছাপা হয়। তারেক রহমান ওরফে পিনুই নিজের বাবার লাশ দেখেন নি, এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন তিনি নাকি লাশ দেখেছেন! এমন মিথ্যাচার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে প্রতারণাও বটে, যারা জিয়ার কবর ভেবে দোয়া-জিয়ারত করতে যায়।

জিয়া নিহত হবার পর কিছুদিন জিয়ার অনুসারীরাই ক্ষমতায় ছিলো। ৩০ মে নিহত হবার পর দিন তৎকালীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে বিদ্রোহী দলের নেতা মেজর জেনারেল মঞ্জুর কাছে লাশ চাওয়া হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। লাশের আশা ছেড়ে দিয়ে এক পর্যায়ে গায়েবানা জানাজাও পড়ানো হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান (স্বাধীনতা বিরোধী)  ও স্পিকার মির্জা গোলাম হাফিজের অংশগ্রহণে। তিন দিন পর খোঁজ মিলে তথাকথিত লাশের, তাও একটি নয়, তিনটি। বাকি দুটো লে. কর্নেল আহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজের বলে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া কোনটা কার লাশ কেউই চিনতে পারে নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সবগুলো লাশের গায়েই ছিলো সামরিক পোশাক। কিন্তু নিহত হবার রাতে জিয়াউর রহমানের গায়ে ছিলো সাদা পাঞ্জাবি, আর জিয়াউর রহমান ততদিনে সামরিক বাহিনীর সদস্যও নন যে পড়নে ইউনিফর্ম থাকার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে! কোনোরকম বুঝ দেবার জন্য একটি অজ্ঞাত লাশ বহনকারী কফিন ঢাকায় আনা হয়, কিন্তু সেটি কাউকে খুলে দেখতে দেওয়া হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরু বাঙালির তথ্যমতে, ২ ম্যাগাজিন বুলেট ও গ্রেনেড চার্জে নিহত জিয়ার ছিন্নভিন্ন লাশটি তিনি কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিতে দেখেছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম কবর দেয়া হয়েছিল বলা হচ্ছে, সেই কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সাক্ষী তখনকার জহির চেয়ারম্যান এখনো বেঁচে আছেন। তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, লাশ তোলা হয়েছিল, কিন্তু জিয়ার লাশ আমরা দেখিনি। পালিয়ে বেঁচে আছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত মেজর মোজাফফর। এটিও বলা হয়ে থাকে, গণকবর থেকে লাশ তুলে আনার টিমে তিনি ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি গণমাধ্যমে একবার বলেছেন, জিয়াউর রহমানের লাশ তিনি চিনতে না পারলেও অনুমান করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এতেই প্রমাণ হয় লাশটি না চিনে আন্দাজে নিয়ে এসেছেন তিনি। অন্য জায়গা থেকে আনার অভিযোগও ভিত্তিহীন নয়। লাশটি হতে পারে কোন সাধারণ সৈনিক, কোনো অফিসারের! এমনকি পাহাড়ের কোনো আদিবাসীর বা অন্য ধর্মালম্বীর দেহাবশেষ থাকার ব্যাপারটিও উড়িয়ে দেওয়া যায়না। আর এই জন্যই প্রয়োজন ডিএনএ পরীক্ষার।

হাজার বছর পরেও ডিএনএ পরীক্ষায় মাধ্যমে দেহাবশেষ শনাক্ত করা যায়। ইংল্যান্ডের রাজা ৩য় রিচার্ড দেহাবশেষ উদ্ধার হয় ৫৩০ বছর পর ২০১২ সালে। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা লেস্টারশায়ারের একটি পার্কিং এলাকায় পাওয়া অজ্ঞাত দেহাবশেষের ডিএনএ পরিক্ষা করে এটি রাজার দেহাবশেষ হিসেবে নিশ্চিত করেন। ১৪৮৫ সালের এক যুদ্ধে রাজা নিহত হলে শত্রুপক্ষ তাকে ৩ দিন ঝুলিয়ে রাখে। ২০১৫ সালে রাজা ৩য় রিচার্ডকে পুনরায় সমাহিত করা হয় ডিএনএ নিশ্চিতের পর।

জিয়ার লাশ নিয়ে যেহেতু বারবার প্রশ্ন উঠছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিতর্কের অবসান হওয়া প্রয়োজন। বিএনপির নেতাকর্মীরা এখানে দোয়া ও জিয়ারত করতে যায়। বিএনপি দল হিসেবে মোনাফেক কিছিমের হলেও আমি বিশ্বাস করি তাদের মধ্যেও অনেক বোকাসোকা ধর্মপ্রাণ মুসলমান রয়েছে। এই অবুঝ মানুষগুলোর ঈমান নিয়ে ছেলেখেলা করা একদমই উচিৎ হচ্ছে না। বিএনপি’র সাধারণ নেতাকর্মীরা যদি নিজেদের ঈমান রক্ষা করতে চায়, তাদেরই উচিৎ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের চাপ প্রয়োগ করা, যাতে চন্দ্রিমার বুকে ‘লালসালু’ হয়ে ওঠা দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজেরও অধিকার আছে তার প্রকৃত দেহাবশেষ শনাক্তের, হোক সে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী কিংবা খুনি!

লেখকঃ- হামজা রহমান (অন্তর) – কলামিস্ট ও ছাত্রনেতা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
ebarta24.com © All rights reserved. 2021